শিরোনাম

আশুগঞ্জে ৩ লাখ টাকায় দুই কন্যা সন্তানকে বিক্রি

ডেস্ক ২৪:: | বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০১৬ | পড়া হয়েছে 667 বার

আশুগঞ্জে ৩ লাখ টাকায় দুই কন্যা সন্তানকে বিক্রি

দারিদ্রতা দূর করার জন্য বিদেশ যেতে মাত্র ৩ লাখ টাকার লোভে ২ কন্যা শিশুকে মানবপাচারকারীর কাছে তুলে দিয়েছে মনির হোসেন নামে এক পাষন্ড বাবা। আর ২ কন্যা সন্তানকে হারিয়ে অনেকটা পাগলের মত হয়ে পড়েছে শিশু দুটির মা রত্না বেগম। এ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাক্ষণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর গ্রামের কান্দাপাড়া এলাকায়। এদিকে ২ কন্যা শিশুকে ফিরে পেতে থানার সামনে মমতাময়ী মা রত্নার বুক ফাটা আর্তনাদে হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে।
বুধবার সকালে পাষন্ড বাবা মনির হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর গ্রামের কান্দাপাড়ার মোঃ ইদ্রিস মিয়ার ছেলে মোঃ মনির হোসেনের সাথে পার্শবর্তী লালপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের আব্দুল হকের মেয়ে রত্নার বিয়ে হয় গত ৮ বছর আগে। বিয়ের পর তাদের সংসারে জন্ম নেয় পর পর ২টি কন্যা শিশু মারিয়া (৬) ও সামিয়া (৪)।
গত ৪ মাস আগে তাদের সংসারে আসে এক পুত্র সন্তান। মারিয়া স্থানীয় একটি প্রাইমারি স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। দারিদ্রতা থেকে কাটিয়ে উঠতে মনির হোসেন একাধীক বার বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করলেও অর্থ অভাবে তার যাওয়া সম্ভব হয়নি।
গত ১৪ জানুয়ারি সকালে মনির ভৈরব ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে স্ত্রী রত্নার কাছ থেকে ২টি কন্যা শিশুকে নিয়ে বাড়ী থেকে বেড়িয়ে আসে। পরদিন নির্বোধের মত একা বাড়ীতে ফিরে আসে মনিরহোসন। স্ত্রী রত্না ২ কন্যা শিশু কোথায় জানতে চাইলে এনিয়ে স্বামী-স্ত্রী‘র মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়।
পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সাফিউদ্দিন চৌধুরী বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক হাজী মোঃ সফিউল্লাহ মিয়ার সহায়তায় মনির হোসেনকে বুধবার সকালে কৌশলে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। বিষয়টি শুনে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ মর্মাহত।
বিষয়টি প্রতিবেশী লোকজন জানতে পেরে প্রথমে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করলেও এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এ ব্যাপারে মনির হোসেন জানান, আগে থেকে ভৈরব বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অপেক্ষায় ছিলেন রতন। সেখানে একটি হোটেলে সবাই মিলে দুপুরের খাবার শেষ করে ভৈরব মেঘনা নদীর পাড়ে সবাই ঘুরতে আসি। ৩ লাখ টাকা দেয়ার কথা বলে রতন আমাকে ফুসলিয়ে ভৈরব ব্রীজের নিচে আনার পর আমাকে অজ্ঞান করে আমার ২ শিশু কন্যাকে অপহরণ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দিকে পালিয়ে যায়। রত্না বেগম জানান, আমার ২ সন্তানকে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে আমার স্বামী বাড়ী থেকে নিয়ে আসে।
পরদিন খালিহাতে বাড়ীতে ফিরে এসে এলো মেলো কথা বলতে থাকে। রতন খোঁজার কথা বলে বাড়ী থেকে বেড়িয়ে আসে। পরে আমার স্বামী স্বীকার করে রতন নামে এক ব্যাক্তি আমার ২ সন্তান নিয়ে পালিয়েছে। বর্তমানে ২ সন্তানকে ফিরে পেতে অনেকটা পাগলের মত হয়ে থানায় অবস্থান করছে মা রত্না বেগম।
এ ব্যাপারে থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সেলিম উদ্দিন জানান, বিষয়টি খুবই হৃদয় বিদারক। আমরা স্থানীয় চেয়ারম্যান মোঃ সাফিউদ্দিন চৌধুরী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক হাজী মোঃ সফিউল্লাহ মিয়ার কাছ থেকে জানতে পেরে মনির হোসেনকে থানায় এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার ও শিশু ২টি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০