শিরোনাম

আশুগঞ্জ-পলাশ এগ্রো ইরিগেশন সেচ প্রকল্পের ড্রেন ভেঙ্গে

আশুগঞ্জে তলিয়ে গেছে শতাধিক বিঘা ইরি জমি ॥ ফসল নষ্ট হওয়ার শঙ্কা কৃষকদের

আশুগঞ্জ প্রতিনিধি | বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | পড়া হয়েছে 206 বার

আশুগঞ্জে তলিয়ে গেছে শতাধিক বিঘা ইরি জমি ॥ ফসল নষ্ট হওয়ার শঙ্কা কৃষকদের

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আশুগঞ্জ-পলাশ এগ্রো ইরিগেশন সেচ প্রকল্পের ড্রেন ভেঙ্গে শতাধিক বিঘার রোপা ইরি ধানের জমি তলিয়ে গেছে। নষ্ট হয়ে গেছে সরিষা জমি।

মঙ্গলবার ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ দুপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ উপজেলার সোহাগপুর এলাকার একটি ড্রেন ভেঙ্গে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়।


সেচ প্রকল্পের কুলিং রিজার্ভার পুকুর ভরাটের ফলে আয়তন কমে যাওয়ায় ও মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ কাজে সেচ খাল- ড্রেন ভরাট করার কারনে ড্রেন ছোট হয়ে পানির চাপে ড্রেনটি ভেঙ্গে যায় বলে জানিয়েছেন কৃষক ও সংশ্লিষ্টরা।
সেচ প্রকল্পের প্রধান সুইচ বন্ধ করে ড্রেনে পানির প্রবাহ কমিয়ে ড্রেন মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিএডিসি কর্তৃপক্ষ।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ করে সেচ প্রকল্পের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে উপজেলার সোহাগপুর এলাকায় ড্রেনের উত্তর পাশের একটি অংশ ভেঙ্গে পারি তীব্র স্রোতে পানি ফসলী জমিতে ঢুকতে থাকে। এক পর্যায়ে ড্রেনের পাশে থাকার জনৈক জলফু মিয়ার একটি বালির ভিটি ও গাছপালা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। তীব্র স্রোতের পানিতে তলিয়ে যায় প্রায় শতাধিক বিঘা রোপা ইরি ধান ও পাকা সরিষা জমি। পানিতে ব্যাপক বালি থাকায় জমির ফসল নষ্ট হওয়ার আশংকা করছেন কৃষকরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সেচ প্রকল্পের আশুগঞ্জ উপজেলার রেলগেইট এলাকায় বিদ্যুৎ বিভাগের পুকুরটি ছিল প্রধান রিজার্ভার। গত বছর এ পুকুরটির প্রায় ৭৫ ভাগ ভরাট করে ফেলে বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ। ফলে রিজার্ভার পুকুরটি ছোট হয়ে পানির ধারন ক্ষমতা কমে যায়।

এদিকে আশুগঞ্জ নদী বন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত মহাসড়ক ফোরলেনে উন্নীতকরণের কাজে মহাসড়কের পাশে প্রায় ১১ কিলোমিটার ড্রেন-খাল ভরাট-ভেঙ্গে ফেলা হয়।

অন্যান্য বছর যেখানে প্রায় ৩০/৪০ ফুট প্রশস্ত ড্রেন-খাল দিয়ে সেচের পানি প্রবাহিত হতো বর্তমানে সেই ড্রেনগুলো সংকুচিত হয়ে কোন কোন স্থানে ৪/৫ফুট নালায় পরিনত হয়েছে। এছাড়া খালে বালি পড়ে গভীরতাও কমে গেছে। ফলে সেই ড্রেন দিয়ে তীব্র গতিতে পানি যাওয়ায় পানির চাপে ড্রেন ভেঙ্গে যায়।

চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে প্রকল্পের আওতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর, আশুগঞ্জ, সরাইল ও নবীনগর উপজেলার প্রায় ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা প্রদান ও প্রায় ৭০ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যে গত ১৫ জানুয়ারি সেচের পানি অবমুক্ত করা হয়।

পানিতে তলিয়ে যাওয়া জমির মালিক কৃষক হাজী আবুল কাসেম জানান, ড্রেন ভেঙ্গে তার ১৮ বিঘা জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরি ধান (রোপানো) ও সরিষা।

জামাল চৌধুরি নামে আরেকজন কৃষক বলেন, ১০ বিঘা সরিষা জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। তারা বলেন, পানির চাপে ড্রেন ভেঙ্গেছে। ড্রেন ছোট হয়ে যাওয়ায় এমনটি হয়েছে।

এ ব্যাপারে বিএডিসির উপ-সহকারি প্রকৌশলী (ক্ষুদ্রসেচ) মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন, ড্রেন ভেঙ্গে যাওয়া খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তিনি বলেন, কমপক্ষে ৬০/৭০ বিঘা রোপা ইরি ধান ও সরিষার জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে বিএডিসির (ক্ষুদ্রসেচ) সহকারি প্রকৌশলী খলিলুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অভ্যন্তরে সেচ প্রকল্পের প্রধান সুইচ পয়েন্টে পানির বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পানি কমে গেলে ড্রেন মেরামত করা হবে।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিএডিসির ( ক্ষুদ সেচ) নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের আওতা ব্যাপক। কিন্তু চারলেন প্রকল্পের কাজে সেচ প্রকল্পের ড্রেন ছোট হয়ে গেছে। উজানে পানি পৌছানোর জন্য ড্রেন এখন পানির চাপ বেশি পড়ায় তা ভেঙ্গে গেছে।

ড্রেন ভেঙ্গে কৃষকের ফসলি জমি তলিয়ে যাবার খবর পেয়ে পানির পয়েন্ট বন্ধ করে দিতে বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার অরবিন্দ বিশ্বাস বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য যাচ্ছি। পানির পয়েন্ট বন্ধ করে দিতে বলা হয়েছে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০