শিরোনাম

আশুগঞ্জে হাজী আব্দুল কুদ্দুস স্কুল এন্ড কলেজে ইভটিজারদের দৌরাত্ম, শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধের পথে

আশুগঞ্জ প্রতিনিধি : | শনিবার, ০২ জুন ২০১৮ | পড়া হয়েছে 255 বার

আশুগঞ্জে হাজী আব্দুল কুদ্দুস স্কুল এন্ড কলেজে ইভটিজারদের দৌরাত্ম, শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধের পথে

আশুগঞ্জ উপজেলার হাজী আব্দুল কুদ্দুস স্কুল এন্ড কলেজে ইভটিজারদের দৌরাত্মে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম প্রায় বন্ধের পথে। ইভটিজারদের ভয়ে স্কুলে আসতে পারছে না কয়েক গ্রমের ছাত্রীরা।

সরেজমিনে জানাযায়, আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর ইউনিয়নের আন্দিদিল গ্রামে অবস্থিত হাজী আব্দুল কুদ্দুস স্কুল এন্ড কলেজে যাতায়াত সুবিধার্থে আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের ছাত্র ছাত্রীরা এখানে অধ্যায়নরত। আশে পাশের ১৫-২০ কিলোমিটার এলাকার ভিতর কোনো উচ্চ বিদ্যালয় না থাকায় নিকটস্থ সদর উপজেলার পুথাই ও ক্ষুদ্র ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিক্ষার্থীরাও এখানে লেখাপড়া করতে আসে। এদিকে, রমজান মাসে শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে অতিরিক্ত ক্লাশ চলাকালীন একদল বখাটে ধারাবাহিকভাবে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে ছাত্রীদেরকে প্রতিনিয়ত উত্যক্ত করতো। দিন দিন এই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে এক পর্যায়ে তালশহর পূর্ব ইউনিয়নের পুথাই গ্রামের মোস্তফা মিয়ার মেয়ে তাইবা বিনতে মোস্তফা তার অভিভাবকদের বিষয়টি অবগত করে। পরদিন তাইবা ও তার দুই বান্ধবী আ: রউফ মিয়ার মেয়ে শাকিলা আক্তার ও ফজলুল হকের মেয়ে আইরিন আক্তার তাদের অভিভাবকদের নিয়ে প্রধান শিক্ষকের নিকট বিচার প্রার্থী হতে আসে। বিচার নিয়ে আসার পথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গেইটের সামনে রফিক মিয়ার ছেলে ইভটিজার এমরান মিয়া তার দলবল নিয়ে তাদের বাধার সৃষ্টি করে। বাধা উপেক্ষা করে বিচারপ্রার্থীরা প্রতিষ্ঠান প্রধানের কার্যালয়ে পৌছলে ইভটিজার তাদের উপর চড়াও হয়। শিক্ষকগণের বাধার উপর তাদের মারতে না পেরে প্রতিষ্ঠানের মুল গেইটের বাইরে তাদের উপর হামলা করে তাদেরকে বেধরক মারপিট করে।


ভিকটিম তাইবা বিনতে মোস্তফা ও তার বান্ধবীরা জানায়, গত এক বছর ধরে তাদের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। স্কুলে আসা যাওয়ার পথে তারা আমাদের বিভিন্ন ভাবে উত্যক্ত করতো। পরে বিষয়টি আমরা অবিভাবকদের অবগত করি।

উক্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোমিন মিয়া জানায়, ঘটনার দিন অভিভাবকরা বিচার দিতে আসলে বখাটেরা তাদের উপর চড়াও হয়। এক পর্যায়ে আমরা শিক্ষকরা তাদের ফিরিয়ে দেই।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কবীর হোসেন জানায়, ঘটনার সময় আমি কুমিল্লা ছিলাম। শিক্ষকদের কাছ থেকে মোবাইলে আমি ঘটনা জানতে পারি। বর্তমানে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম খন্ডকালীন স্থগিত আছে।

আশুগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বপন চক্রবর্তী জানায়, গত ২৭ মে ২০১৮ তাইবার পিতা মোস্তফা বাদী হয়ে আশগঞ্জ থানায় মামলা করে। পুলিশ তৎক্ষণাৎ অভিযান চালিয়ে পুথাই গ্রামের রফিক মিয়ার ছেলে এমরান মিয়া ও একই গ্রামের নুরু মেম্বারের ছেলে নাজমুল উরফে মাহবুবকে আটক করে। তিনি আরো বলেন, মামলার বাকী আসামীদেরকেও দ্রুত গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলছে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০