শিরোনাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংবাদপত্র জগতের কিংবদন্তী

আলহাজ্ব মোঃ নূরুল হোসেন আর নেই ॥ দাফন সম্পন্ন

শামীম উন বাছির | বুধবার, ২৭ মার্চ ২০১৯ | পড়া হয়েছে 256 বার

আলহাজ্ব মোঃ নূরুল হোসেন আর নেই ॥ দাফন সম্পন্ন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংবাদপত্র জগতের কিংবদন্তী, জেলার প্রথম ও সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক“দৈনিক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সম্পাদক ও প্রকাশক আলহাজ্ব মোঃ নূরুল হোসেন আর নেই (ইন্না—রাজিউন)। গত মঙ্গলবার বিকেল তিনটায় সবাইকে শোক সাগরে ভাসিয়ে তিনি চলে যান না ফেরার দেশে। তার মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়ে, নাতি-নাতনীসহ বিপুল সংখ্যক আত্মীয়-স্বজন রেখে যান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিকসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ৫মিনিটে ঢাকার একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মঙ্গলবার ঢাকায় তার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।


আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় স্থানীয় লোকনাথ উদ্যান (টেংকের পাড়) জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে মরহুমের দ্বিতীয় নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে জানাযার আগে তাঁর কর্মময় জীবনের উপর বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি খ. আ. ম. রশিদুল ইসলাম। প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি আল-আমীন শাহীনের পরিচালনায় এসময় আরো বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মোঃ আরজু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া টিভি জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি মনজুরুল আলম, সাধারন সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন জামি, সাহিত্য একাডেমী সভাপতি কবি জয়দুল হোসেন ও প্রয়াতের বড় ছেলে মাহবুব হোসেন শাহী। নামাজে জানাযায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সর্বস্তরের সাংবাদিকগন, সরাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। নামাজে জানাযার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব ও টিভি জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে মরহুমের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পন করে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

বাদ জোহর নাসিরনগর উপজেলার গুনিয়াউক জমিদার বাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে তৃতীয় নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে জানাযায় স্থানীয় সংসদ সদস্য বি.এম ফরহাদ হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল কবিরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, উপজেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নেন। নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।

আলহাজ্ব নূরুল হোসেন জেলার নাসিরনগর উপজেলার গুনিয়াউকের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একজন প্রচার বিমুখ ও নিরহংকারী মানুষ। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যে কয়েকজন মানুষ সমাজ বিনির্মানে কাজ করছেন তাদেরই একজন ছিলেন আলহাজ্ব মোঃ নুরুল হোসেন। তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংবাদপত্রের জগতের কিংবদন্তী ব্যক্তিত্ব। জেলার সংবাদপত্রের জগতে তিনি নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছিলেন। নিজের মেধা, প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতাকে ঢেলে দিয়েছিলেন সংবাদপত্রের বিকাশে। ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান হয়েও মোঃ নূরুল হোসেন আয়েশী জীবন বেছে না সমাজ বিনির্মানে কাজ করেন। ছোট বেলা থেকেই তিনি জড়িয়ে পড়েন বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনে। ছাত্র রাজনীতিও করেছেন কিছুদিন। ১৯৬০ সালে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমার শ্রেষ্ঠ আবৃত্তিকার নির্বাচিত হন। ১৯৬২ সালে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার হালদাপাড়ায় প্রথম নিবন্ধিত ক্লাব “উদীয়মান সংঘ” প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ছিলেন এই ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। ১৯৬২-৬৩ শিক্ষাবর্ষে তিনি “কলেজ ছাত্রলীগ” এর ব্যানারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের “সমাজ কল্যাণ” সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৬৪ সালে অধ্যাপক মিন্নাত আলী সম্পাদিত “পাক্ষিক পরিচয়” পত্রিকায় সহ সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। পত্রিকাটির কিশলয় বিভাগে কাজ করে তিনি শিশুদের কাছে “মালাকার” ভাই হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। তৎকালীন সময়ে তিনি “অগ্রগামী মুকুল মেলা” নামে একটি শিশু সংগঠন ও গড়ে তুলেন। কিছুদিন তিনি নাসিরনগরের একটি হাই স্কুলেও শিক্ষকতা করেন। ১৬৬৫ সালে তিনি সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে প্রকাশ করেন “সাপ্তাহিক তিতাস”। ১৯৭০ সালে তিনি দৈনিক পূর্বদেশের নাসিরনগর প্রতিনিধি নিযুক্ত হন। দুই বছর কাজ করেন ওই পত্রিকায়। ১৯৭২ সালে তিনি দৈনিক “সংবাদ” এর নাসিরনগর প্রতিনিধি নিযুক্ত হন। সাপ্তাহিক “তিতাস” ছিল তখনকার সময়ে একটি সফল ও নিয়মিত সংবাদপত্র। দীর্ঘ ১৭ বছর সাপ্তাহিক তিতাস-ই ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের প্রিয় পত্রিকা। তখন থেকেই সাহসী মানুষ নূরুল হোসেন অনুধাবন করতে পেরেছিলেন একটি দৈনিকের প্রয়োজনীয়তা। মানুষ চায় নিত্যদিনের তাজা খবর। সেই অনুভব থেকেই তিনি সবাইকে চমকে দিয়ে ১৯৯২ সালের ১ ফেব্র“য়ারী প্রকাশ করেন জেলার প্রথম দৈনিক “দৈনিক ব্রাহ্মণবাড়িয়া”। এটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অপ্রতিদ্বন্দ্বী দৈনিক। তিনিই প্রথম পত্রিকাটিকে লেটার প্রেস থেকে নিয়ে আসেন কম্পিউটার কম্পোজে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রবাসী সন্তানরা যাতে জেলার সংবাদ জানতে পারেন সেজন্য তিনি দৈনিক ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে ওয়েব সাইটে দিয়ে দেন। দৈনিক ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার একমাত্র “ওয়েজ বোর্ড” নিবন্ধিত পত্রিকা।
এদিকে আলহাজ্ব নূরুল হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি। এক শোক বার্তায় প্রয়াত নূরুল হোসেনের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বলেন,আলহাজ¦ নূরুল হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার বিকাশে যে ভূমিকা পালন করেছেন তা তাকে বাঁচিয়ে রাখবে। তিনি আমৃত্যু সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার প্রতি নিবেদিত ছিলেন।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১