শিরোনাম

ফলোআপঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শ্যালিকাকে ধর্ষণ শেষে হত্যা

আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন ভগ্নিপতি নাঈম

স্টাফ রিপোর্টার | সোমবার, ২৪ জুন ২০১৯ | পড়া হয়েছে 312 বার

আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন ভগ্নিপতি নাঈম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শ্যালিকাকে ধর্ষনের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ভগ্নিপতি নাঈম ইসলাম-(২৭)।

গত রোববার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট সরওয়ার-ই-আলমের আদালতে ধর্ষক নাঈম শ্যালিকাকে ধর্ষনের ঘটনা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন। রোববার বেলা ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নাঈমের জবানবন্দি রেকর্ড করেন বিজ্ঞ বিচারক সরওয়ার-ই আলম। রোববার সকালে নাঈমকে আদালতে সোপর্দ করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর থানার এস.আই শফিকুল আলম বাবু।


এর আগে গত শনিবার ভোর রাতে নাঈমকে সদর উপজেলার তালশহর (পূর্ব) ইউনিয়নের অষ্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে শ্যালিকা তামান্না আক্তারকে-(১৫) ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার এস.আই শফিকুল আলম বাবু বলেন, রোববার আদালতে জবানবন্দি দেয়ার সময় নাঈম আবেগপ্রবন হয়ে পড়েন। সে ভুল করেছে বলে আদালতকে জানায়।
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নাঈম আদালতকে জানায়, সে ও তার বাবা বসু মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের সড়ক বাজারের নৈশ প্রহরীর চাকুরী করেন। সপ্তাহে একদিন রাতে স্ত্রী ও সন্তানের সাথে থাকার সুযোগ পায়।

গত ২০ জুন বুধবার বাড়িতে থাকার সময় বিকেলে স্ত্রী স্মৃতি আক্তারের সাথে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তার ঝগড়া হয়। রাতে ঘরে এক রুমে স্ত্রী ও সন্তানের সাথে সে শুয়ে পড়ে। পাশের কক্ষে তখন ঘুমাচ্ছিল শ্যালিকা তামান্না আক্তার। রাত ১টার দিকে সে তামান্নাকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর তামান্না চিৎকার শুরু করলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে নাঈম। তামান্নাকে হত্যার পর পুনরায় স্ত্রী স্মৃতি আক্তারের পাশে গিয়ে শুয়ে পড়ে সে।

এদিকে এ ঘটনায় শনিবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় নাঈমের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন তামান্নার বাবা নোয়াব আলী।
নিহত তামান্না আক্তার পৌর এলাকার আমিনপুর গ্রামের নোয়াব আলীর মেয়ে। সে কালিসীমা-শালগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণীতে পড়াশুনা করতো। নাঈম সদর উপজেলার নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের শালগাঁও গ্রামের বসু মিয়ার ছেলে।

তামান্না আক্তার গত ১৭ জুন সোমবার বড় বোন স্মৃতি আক্তারের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যায়। ১৯ জুন রাতে ভগ্নিপতি নাঈম তার স্ত্রী স্মৃতি আক্তার ও শিশুকন্যা জান্নাতকে আমের জুস খাইয়ে অচেতন করে তামান্নাকে ধর্ষণ এবং হত্যা করে।
এ ঘটনার পর লজ্জা-অপমানে ও মামলায় আসামি হওয়ার ভয়ে নাঈমের বাবা বসু মিয়া ২২ জুন শনিবার ভোরে জেলার নবীনগর উপজেলার গোসাইপুর গ্রামে তার এক আত্মীয়ের বাড়ির পাশে গাছের সাথে ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১