শিরোনাম

আজ মহান বিজয় দিবস

স্টাফ রিপোর্টার : | শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭ | পড়া হয়েছে 330 বার

আজ মহান বিজয় দিবস

ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বিজয়ের ৪৬ বছর পূর্ণ হল আজ। কৃতজ্ঞ বাঙালি জাতি শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করছে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান সেই অকুতোভয় বীরদের, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে এসেছে এ বিজয়, বিশ্বের মানচিত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।
বাঙালি জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবময় দিবস আজ। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ। ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা, ঊনসত্তরের গণআন্দোলন, ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, ২৫ মার্চে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস এবং ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ পেরিয়ে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে বাংলাদেশ।
এ বছর এমন এক সময়ে বিজয় দিবস পালিত হচ্ছে যখন বাঙালির মুক্তির সনদ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের অন্তর্ভুক্ত করেছে জাতিসংঘ।
১৯৪৭ সালে অবসান ঘটে দুশ বছরের ঔপনিবেশিক শোষণের। কিন্তু ইংরেজ চলে গিয়ে নতুন প্রভু হিসেবে আসে পশ্চিম পাকিস্তানিরা। তারা আমাদের কৃষ্টি-সংস্কৃতি-ভাষার ওপর একের পর এক আঘাত হানে। অর্থনৈতিকভাবেও পূর্ববাংলার জনগণের ওপর চলে শোষণ। এর প্রতিবাদে ভাষা আন্দোলন করেছে বাঙালি, করেছে ৬ দফা আন্দোলন ও ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেলেও সরকার গঠন করতে দেয়নি পশ্চিম পাকিস্তানিরা। বরং চলতে থাকে নির্যাতন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু জাতিকে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত করেন এবং প্রকৃত স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। আলোচনার নামে সময় ব্যয় করে ২৫ মার্চ রাতে অতর্কিত নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। দেশজুড়ে শুরু হয় গণহত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের তা-ব। বঙ্গবন্ধুকে বন্দি করে নিয়ে যাওয়া হয় পশ্চিম পাকিস্তানে। বন্দি হওয়ার আগেই তিনি সংক্ষিপ্ত বার্তায় স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
এর পরের ইতিহাস বাঙালির প্রতিরোধের ইতিহাস। মুজিবনগর সরকার গঠন হয়, গঠিত হয় মুক্তিবাহিনী। মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেন বাংলার কৃষক, শ্রমিক, ছাত্রসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত বাঙালি, ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস এবং পূর্ববাংলার পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা এতে যোগ দেন। অন্যদিকে পাকিস্তানিদের সাথে হাত মিলিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে জামায়াতে ইসলামী, রাজাকার, আলবদর, আল শামস ও শান্তি কমিটির বিশ্বাসঘাতক কিছু মানুষ। মুক্তিবাহিনীর গেরিলা যুদ্ধ ও সম্মুখযুদ্ধের সামনে পাকিস্তানিরা পরাজিত হতে থাকে। ডিসেম্বরে গঠিত হয় ভারত-বাংলাদেশ যৌথবাহিনী। যৌথবাহিনীর আক্রমণে পর্যুদস্ত হয়ে পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে শত্রুরা। কিন্তু পরাজয়ের আগে তারা শেষ আঘাত হিসেবে হত্যা করে বাংলার প্রধান বুদ্ধিজীবীদের। ১৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। স্বাধীন বাংলাদেশের আকাশে ওড়ে লাল-সবুজ পতাকা।
দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ সাধারণ ছুটির দিন। ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে বিজয় দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সারা দেশে সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উড়ছে। ঘরে ঘরে উড়ছে লাল-সবুজ পতাকা।


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১