শিরোনাম

আজ মহান একুশে এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

বিশেষ প্রতিনিধি : | বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | পড়া হয়েছে 285 বার

আজ মহান একুশে এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

‘আর যেন না দেখি কার্তিকের চাঁদ কিংবা পৃথিবীর কোনো হীরার সকাল, কোনোদিন আর যেন আমার চোখের কিনারে, আকাশের প্রতিভা, সন্ধ্যা নদীর অভিজ্ঞান আর রাত্রি রহস্যের গাঢ় ভাষা কেঁপে না ওঠে, কেঁপে না ওঠে পৃথিবীর দীপ্তিমান দিগন্তের তারা’- এমনই গাঢ় থেকে গাঢ়তর বেদনার বোধ অনুরণিত হয়েছিল কবি শামসুর রাহমানের কবিতায় ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির পর। ১৯৪৮ সালে গড়ে ওঠা ভাষা আন্দোলনের পথ বেয়ে সেদিন বাংলাভাষী তরুণদের রাজপথে রক্ত দিতে হয়েছিল। তাদের হারিয়ে যাওয়ার ব্যথা এখনও প্রতিটি বাঙালির প্রাণে বাজে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ হয়ে।

আজ বুধবার (২১.০২.২০১৮) সেই বেদনাবিধুর ও গৌরবের একুশে ফেব্রুয়ারি। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা ইউনেস্কোর ৩০তম সম্মেলনে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ২৮টি দেশের সমর্থনে ফেব্রুয়ারির এ দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি পায়। ২০০০ সাল থেকে বিশ্বের ১৮৮টি দেশে একযোগে এ দিবস পালিত হচ্ছে। এ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাঙালি জাতি ও বাংলাদেশের জন্য এক অনন্য অর্জন।


তবে বিশ্বব্যাপী একুশে ফেব্রুয়ারি স্বীকৃতি পেলেও এখনও দিবসটির ইতিহাস ও তাৎপর্য যথাযথভাবে প্রচারিত নয়, বাংলাদেশেও এর অম্লান চেতনা সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। রাষ্ট্রভাষা হিসেবে দেশের সংবিধানে বাংলার স্বীকৃতি থাকলেও সর্বস্তরে তা চালুর দাবি বাস্তবায়ন হয়নি।

আজ সরকারি ছুটির দিন। সারাদেশে আজ দিনের শুরু হয়েছে শহীদ মিনারে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদনের মধ্য দিয়ে। বিশ্বের দেশে দেশে নানা ভাষা, নানা বর্ণ, নানা সংস্কৃতির মানুষ আজ গাইছে একুশের অমর গান- ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো…’।

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। এসব বাণীতে তারা ভাষার জন্য আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে ভাষা আন্দোলনের চেতনায় শহীদদের স্বপ্ন পূরণে দেশ ও জাতির কল্যাণে এগিয়ে আসার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান রেখেছেন। বিরোধী দলের নেতা বেগম রওশন এরশাদও পৃথক বাণী দিয়েছেন।

অমর একুশে পালন নিরাপদ রাখতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, আজিমপুর কবরস্থানসহ একুশের প্রভাতফেরি প্রদক্ষিণের এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রণয়ন করা হয়েছে শহীদ মিনারে প্রবেশের রোডম্যাপ। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে এটি কার্যকর হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে আজ বুধবার দুপুর পর্যন্ত শহীদ মিনার ও এর আশপাশের এলাকায় সর্বসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে যানবাহন চলাচলেও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। শুধু সুনির্দিষ্ট স্টিকার-সংবলিত যানবাহন ওই এলাকায় প্রবেশ করতে পারবে। তবে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সর্বসাধারণের জন্য শহীদ মিনার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১