শিরোনাম

আজ বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস

স্টাফ রিপোর্টার : | বুধবার, ১০ জানুয়ারি ২০১৮ | পড়া হয়েছে 253 বার

আজ বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস

আজ ১০ জানুয়ারি। বাঙালির মুক্তির সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক দিন। স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বিজয় অর্জনের পর ১৯৭২ সালের এ দিনেই পাকিস্তানে দীর্ঘ কারাবাস শেষে সদস্য স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন বাঙালির অবিসংবাদিত এই নেতা। বাঙালি জাতির শৃঙ্খলমুক্তিতে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ঘটনা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। কারণ, নয় মাসের সশস্ত্র ও রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে দেশ স্বাধীন হলেও প্রকৃতপক্ষে তার দেশে ফিরে আসার মধ্য দিয়েই বাঙালির বিজয় পূর্ণতা লাভ করে। আর এ কারণে তিনি নিজেই তার এ স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে আখ্যায়িত করেছিলেন “অন্ধকার হতে আলোর পথে যাত্রা” হিসেবে।
১৯৭২ সালের এই দিনে তিনি পাকিস্তানিদের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন। জীবন-মৃত্যুর কঠিন চ্যালেঞ্জের ভয়ঙ্কর অধ্যায় পার হয়ে সারা জীবনের স্বপ্ন, সাধনা ও নেতৃত্বের ফসল সার্বভৌম বাংলাদেশে মহান এ নেতার ফেরার মাধ্যমেই স্বাধীনতা সংগ্রামের বিজয় পূর্ণতা পায়। পলাশির প্রান্তরে বাংলার স্বাধীনতা-সূর্য অস্তমিত হওয়ার দীর্ঘ ১৯০ বছর পর ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়ে পাকিস্তান ও ভারত দু’টি রাষ্ট্র নতুনভাবে পথচলা শুরু করেছিল। কিন্তু পাকিস্তান রাষ্ট্রের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তান নামে বাংলাদেশের পথচলা প্রথম থেকেই বাংলার জনগণ মেনে নিতে পারেনি। যার ফলে ১৯৫২ সালের মায়ের ভাষা রক্ষা করার জন্য প্রাণ দিয়েছে বাঙালিরা। সালাম, বরকত, রফিকের জীবনের বিনিময়ে এনেছে রাষ্ট্রভাষা বাংলা। পরে ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৫৮-এর আইয়ুব খানের মার্শাল ল’ বিরোধী আন্দোলন ’৬২-এর কুখ্যাত হামিদুর রহমানের শিক্ষানীতি-বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন বঙ্গবন্ধু শেষ মুজিবুর রহমান। পাকিস্তানিদের শোষণ-নির্যাতন, নিপীড়নের বিরুদ্ধে জনগণের দুয়ারে পৌছে দিয়েছিলেন ঐতিহাসিক ছয় দফা। যা বাঙালি প্রতিটি হৃদয়কে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য উদ্বুদ্ধ করে। ’৬৯-এর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ রাজবন্দিদের মুক্ত করা, সর্বোপরি ৎ৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করার ফলেই বাঙালিরা বাংলার স্বাধীনতার চূড়ান্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ দেখতে শুরু করেছিলেন। ’৭০-এর নির্বাচনের পর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে পাকিস্তানিরা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব প্রদানে গড়িমসি করাতেই স্বাধীনতা আন্দোলন ভিন্ন দিকে মোড় নেয়।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা দেন ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। বঙ্গবন্ধুর এ ঘোষণার পর ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ‘অপারেশন সার্চলাইন’ নামে এই অভিযানের শুরুতেই পাক হানাদাররা বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তার ধানমন্ডির বাসা থেকে বন্দি করে নিয়ে যায়। গ্রেপ্তারের আগ মুহুর্তে স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে যান বঙ্গবন্ধু। গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি করা হলেও বঙ্গবন্ধুর নামেই চলে মুক্তিযুদ্ধ। বাঙালি যখন প্রতিরোধ যুদ্ধ গড়ে তুলেছে, বঙ্গবন্ধু তখন পাকিস্তানের কারাগারে প্রহসনের বিচারে ফাঁসির আসামি হিসেবে মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন। পাকিস্তানের কারাগারে বঙ্গবন্ধুকে অসংখ্যবার হত্যার উদ্দেশ্যে ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি শুধু বলেছিলেন, ‘আমাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করলে আপত্তি নেই, কিন্তু তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ আমার মরদেহটা আমার বাংলার মানুষের কাছে পাঠিয়ে দিও।’ ইস্পাত-কঠিন মনোবল ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পাকিস্তানিরা জাতির পিতাকে হত্যা করতে সাহস পায়নি। বাংলার দামাল ছেলেরা যুদ্ধ করে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাস্ত করে বাংলার স্বাধীনতা ছিনিয়ে নেয়ার পর ১৯৭২ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে স্বদেশের মাটিতে পা রাখেন। গলায় পরেন বিজয়ের মালা। দেশ পরিণত হয় উৎসবের নগরীতে। সেই থেকে সারা বাংলার জনগণ দিবসটিকে বঙ্গবন্ধু’র স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১