শিরোনাম

আজ আখাউড়া মুক্ত দিবস

আখাউড়া প্রতিনিধি : | বৃহস্পতিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | পড়া হয়েছে 316 বার

আজ আখাউড়া মুক্ত দিবস

আজ ৬ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনীর দখল থেকে মুক্ত হয় আখাউড়া। তাই আজ ৬ ডিসেম্বর আখাউড়া মুক্ত দিবস।

১৯৭১ সালের এদিনে মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাঞ্চলীয় জোনের প্রধান জহুর আহম্মেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশন এলাকায় লিলু মিয়া, নাজির হোসেন, দেওয়ান খান খাদেমসহ আরও অনেকেই আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা উত্তোলন করেন। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে আজ ৬ ডিসেম্বর আখাউড়া উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ সংগঠণের উদ্যোগে পৌরশহরের সড়ক বাজারের পোষ্ট অফিসের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, র‌্যালি, অস্থায়ী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, আলোচনা সভা মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।


১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে আখাউড়া ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের অন্যতম রণাঙ্গন। ভারতের ত্রিপুরা সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে আখাউড়ায় পাক হানাদার বাহিনীর সম্মুখ যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মো. মোস্তফা কামালসহ অসংখ্য বীর মুক্তিযোদ্ধা। সম্ভ্রম হারিয়েছে শত শত নারী। ২৩ আগষ্ট বাংলাদেশি দোসরদের সহযোগিতায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আখাউড়া উপজেলার গঙ্গাসাগরে চালায় গণহত্যা। ওইদিন একই গ্রামের ২৭জন সহ ৩৩ জনকে সামনে থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে এস ফোর্সের প্রায় দু’বিগ্রেড সৈন্য আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে অবস্থান নেয়। রেলওয়ে স্টেশনের যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর প্রায় দুই শতাধিক সেনা হতাহত হয়।

৪ ডিসেম্বর আখাউড়া যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর সাথে ভারতীয় মিত্রবাহিনী মিলিত হয়। ৪ ও ৫ ডিসেম্বর অবিরাম যুদ্ধ শেষে আখাউড়া এলাকা মুক্তিবাহিনীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। পাকবাহিনীর দু’ শতাধিক সৈন্য নিহত হয়, বাকিরা পালিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আশ্রয় নেয়। মুক্তিবাহিনীর মাত্র ২১ বছর বয়সের যুবক লেফটেন্যান্ট বদিউজ্জামানসহ কয়েকজন মুক্তিসৈনিক এ রণাঙ্গণে শহীদ হন। তাঁদের মরদেহ আখাউড়া এবং আজমপুরে সমাহিত করা হয়েছে। এরই মাঝে ৬ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে দশটায় ভারত সরকার দিল্লীতে লোকসভায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ সরকার কে ভারতের স্বীকৃতি দেয়ার কথা ঘোষণা করেন। বাংলাদেশকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ভারত স্বীকৃতি দিয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতায় এগিয়ে আসে। ভারতীয় সেনাবাহিনী ও মুক্তিবাহিনী প্রকাশ্যে মিত্রবাহিনীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধারা আখাউড়া অঞ্চল ৬ ডিসেম্বর সম্পূর্ণ হানাদার মুক্ত করেন।

উল্লেখ্য, একাত্তরের ৩০ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর আখাউড়ার উত্তর সীমান্তবর্তী আজমপুর ও রাজাপুর এলাকায় আধুনিক অস্ত্রে সুসজ্জিত পাক বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিবাহিনীর প্রচণ্ড যুদ্ধ হয়। ৩ ডিসেম্বর রাতে মুক্তিবাহিনী আজমপুর শক্ত অবস্থান নিলে সেখানেও অবিরাম যুদ্ধ হয়। ওই যুদ্ধে পাকহানাদার বাহিনীর ১১ সৈন্য নিহত ও মুক্তিবাহিনীর দ’ুজন সিপাহী ও একজন নায়েক সুবেদার শহীদ হন। ৪ ডিসেম্বর আজমপুরে পাক বাহিনীর মর্টারশেলের আঘাতে শহীদ হন লে. ইবনে ফজল বদিউজ্জামান। ৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী সম্মিলিতভাবে আখাউড়ায় আক্রমণ করে। ৫ ডিসেম্বর সারাদিন, সারারাত তুমুল যুদ্ধের পর ৬ ডিসেম্বর আখাউড়া স¤পূর্ণভাবে শত্র“ মুক্ত হয়।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০