শিরোনাম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, সংস্কৃতিকর্মীদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনায় প্রফেসর ফাহিমা খাতুন

আগামী ভোটযুদ্ধে নৌকার পক্ষে সংস্কৃতিকর্মীদের চিন্তাশীলতাকে কাজে লাগাতে হবে

| বুধবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮ | পড়া হয়েছে 246 বার

আগামী ভোটযুদ্ধে নৌকার পক্ষে সংস্কৃতিকর্মীদের চিন্তাশীলতাকে কাজে লাগাতে হবে

দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, সংস্কৃতিকর্মীদের করণীয়’ শীর্ষক সংস্কৃতিকর্মীদের এক সম্মিলনী গতকাল ০৪ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয়।

সুরসম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনের সাধারণ সম্পাদক কবি আবদুল মান্নান সরকারের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মাউশি’র সাবেক মহাপরিচালক (গ্রেড ওয়ান) প্রফেসর ফাহিমা খাতুন।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ফাহিমা খাতুন বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্যে আজ মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ শক্তির ব্যাপক ঐক্যের বড় প্রয়োজন। আমরা কি দেখছি, আমরা দেখছি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি আজ একটি বড় ফ্লাটফরমে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আবার দেশবিরোধী কাজে নেমে পড়েছে। অপরদিকে উন্নয়নের রূপায়নকারি হিসেবে আমরা আজ আনন্দ-জোয়ারে ভাসছি। আমরা ভাবছিনা, আমাদের যেকোন শৈথিল্যের জন্য আবারো দেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত হতে পারে। আমাদেরকে সচেতন ও সজাগ হয়ে নৌকার পক্ষে ভোটযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। আমাদের পক্ষের প্রত্যেক ভোটারকে শুধু কেন্দ্রেই পাঠাতে হবে না, আমাদেরকে কেন্দ্র পাহাড়া দিতে হবে। ভোটের লড়াইয়ের এ ক্রান্তিলগ্নে সংস্কৃতি ও সাহিত্য কর্মীদের দায়বদ্ধতা অনেক বেশী। শিল্পগুন দিয়ে ভোটারদেরকে আকৃষ্ট করার ক্ষমতা তাঁদের অনেক বেশী। আগামী ভোটযুদ্ধে নৌকার পক্ষে সংস্কৃতিকর্মীদের চিন্তাশীলতাকে কাজে লাগাতে হবে।’ সভাপতির বক্তব্যে আবদুল মান্নান সরকার বলেন, আমাদেরকে আজকে শপথ নিতে হবে, আগামী ভোটযুদ্ধে উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর নির্বাচনে যার যার অবস্থানে থেকে নৌকার পক্ষে আমরা কমিটেড হয়ে কাজ করবো।

স্বাগত বক্তব্যে শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক এস আর এম ওসমান গণি সজীব বলেন, জননেতা মোকতাদির চৌধুরী তিতাসপাড়ে কল্যাণ রাজনীতির প্রতিভূ, শিল্প-সংস্কৃতি চর্চার আস্থাশীল এক বটবৃক্ষ। ৩০ ডিসেম্বর এর জাতীয় নির্বাচনে তাঁর বিজয়ে আমাদেরকে ইস্পাতকঠিন ঐক্য গড়ে তুলে মাঠে ময়দানে কাজ করতে হবে। যেতে হবে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করেই আমরা ঘরে ফিরবো ইনশাল্লাহ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া গবেষক মুহম্মদ মুসা বলেন, আমি মোকতাদির চৌধুরীকে এ জন্য ভালবাসি, তিনি একজন জ্ঞানী ব্যক্তি। তাঁর জ্ঞানের গভীরতা অপরিমেয়। তিনি শুধু আমাদের সংস্কৃতিকেই বেগবান করেননি, তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে সন্ত্রাস, ভূমি দস্যুতা, ছিনতাই এর মত ইত্যাদি অপরাধকে নির্মূল করে ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে শান্তির জনপদে পরিণত করেছেন। শিক্ষাক্ষেত্রে তিনি যে অবদান রেখেছেন এ জন্য তিনি এই জনপদে অমর হয়ে থাকবেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর কলেজের অধ্যক্ষ হরিলাল দেবনাথ বলেন, রবিউল সাহেব এমপি হবার পর আমাদের সংস্কৃতির যে বিকাশ হয়েছে তাঁকে আবারো আগামী নির্বাচনে জয়যুক্ত করে সে ধারাকে অব্যাহত রাখতে হবে।

সাহিত্য একাডেমীর উপদেষ্টা অ্যাডঃ আবু তাহের বলেন, উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীই এ জনপদে এমন ব্যক্তিত্ব, যিনি সংস্কৃতি ও রাজনীতির সম্মিলন ঘটিয়েছেন। তিনি একজন জ্ঞানগর্ব মানুষ, তিনি একজন আলোকিত মানুষ। আমরা মোকতাদির চৌধুরীকে জয়মাল্য পড়িয়ে আমরা ঘরে ফিরবো। সাহিত্য একাডেমীর সভাপতি কবি জয়দুল হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন সমগ্র বিশ্ব আজ দু’ভাবে ভিভক্ত- শোষক আর শোষিত। আজকের বাংলাদেশ দু’ভাগে বিভক্ত তা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ শক্তি আর মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি। আমি মনে করি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী আগামী নির্বাচনে জয়ী হলে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ শক্তির জয় হবে।

প্রবীণ সংস্কৃতিকর্মী মনজুরুল আলম বলেন, তিতাসপাড়ের সংস্কৃতির উজ্জীবন ও বিকাশে র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী যে অবদান রেখেছেন, আগামী নির্বাচনে তাঁকে বিজয়ী করতে যার যার অবস্থানে দায়িত্বপালন করে সংস্কৃতিকর্মীদের এ দায় শোধ করতে হবে। রবীন্দ্র সম্মিলন পরিষদের সভাপতি মানবর্দ্ধন পাল বলেন, আমি আমার অবস্থানে থেকে যতটুকু সাধ্য আছে এর সবটুকু দিয়েই মোকতাদির চৌধুরীর বিজয় ছিনিয়ে আনতে কাজ করবো। মনে রাখতে হবে মোকতাদির চৌধুরী জয়ী হলেই জয়মাল্য পড়বেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। নারীবাদী নেত্রী নন্দিতা গুহ বলেন, কিছুদিন আগেও আমরা শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় ছিলাম রবিউল ভাই দলীয় মনোনয়ন পাবেন কিনা। শেষপর্যন্ত তিনি মনোনয়ন পেয়েছেন, এ জন্য আমি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই। সংস্কৃতির অঙ্গনে যাঁরা বর্ণচোরা আছে তাদেরকে শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। রবিউল ভাইয়ের বিজয় ছিনিয়ে আনতে আমাদেরকে আরাম হারাম করে কাজে নেমে পড়তে হবে।

জেলা নাগরিক ফোরাম এর সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা রতনকান্তি দত্ত বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মোকতাদির চৌধুরীর বিজয়কে নিশ্চিত করেই আমাদের ঘরে ফিরতে হবে। বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক, বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী কবি মোঃ মনির হোসেন বলেন, আমি মোকতাদির চৌধুরীকে ভালবাসি তাঁর অসাম্প্রদায়িক চেতনার জন্য। তিনি এদেশে প্রগতিশীল রাজনীতির অন্যতম আদর্শসৈনিক। মোকতাদির চৌধুরী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংস্কৃতির বিকাশে যে কাজ করেছেন তা রীতিমত নজীরবিহীন। তিনি আমাদের প্রগতিশীল সংস্কৃতিচর্চার প্রাণপুরুষ। তিনি তৃতীয়বারের মত আবার জয়যুক্ত হলে, প্রকারান্তরে সংস্কৃতি কর্মীদেরই জয় হবে। তাকে জয়যুক্ত করতে দ্বারে দ্বারে গিয়ে আমাদের ভোট চাইতে হবে। বঙ্গবন্ধু পরিষদের সদস্য ও লেখক আমির হোসেন বলেন, সংস্কৃতির যে বহমান জোয়ার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়, তা যেন আবার নিস্তেজ হয়ে না যায় তার জন্যই নৌকার প্রার্থী উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীকে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আবার জয়যুক্ত করতে হবে।

জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম স্বপন বলেন, মোকতাদির শুধু একটি নাম নয়, তিনি আমাদের সংস্কৃতি ও সংস্কৃতি-চর্চার বাতিঘর। ভোটযুদ্ধে উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীকে জয়যুক্ত করে জেলায় একটি সাংস্কৃতিক পল্লী গড়ে তোলার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে হবে। আমাদের মাঝে গড়ে তুলতে হবে ইস্পাতকঠিন সাংস্কৃতিক ঐক্য। ব্রাহ্মণবাড়িয়া নাট্যগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সোহেল বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংস্কৃতির রাজধানী। সে রাজধানীতে যখন সংস্কৃতির আকাল, ঠিক সে সময়ে জননেতা র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরনায় আবার আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গন মুখর হয়ে উঠেছে। তিতাস আবৃত্তি সংগঠনের সহকারী পরিচালক বাছির দুলাল বলেন, মৌলবাদীদের প্রকাশ্য তা-বে আমাদের সংস্কৃতির যখন তুমুল দুর্দশা, সে সময় আমাদের মাঝে আবির্ভূত হলেন উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। আজ আমাদের সংস্কৃতিতে তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় আবার এসেছে প্রাণের জোয়ার। এ অবস্থা ধরে রাখতে হবে।

ইসলামিক সেন্টারের সাধারণ সম্পাদক শওকত হায়াত খান বলেন, ইসলামিক সেন্টারসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে পাকিস্তানী ভাবধারার জামাতিদের অপসারনে আমরা রবিউল ভাই এর নেতৃত্বেই সফলকাম হয়েছি। অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের অ্যাডঃ নাসির বলেন, মৌলবাদী সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সকল সংস্কৃতিকর্মীদের সুদৃঢ় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। পাবলিক লাইব্রেরীর মোমিনুল আলম বাবু বলেন, ২০১৬ সালের ১২ জানুয়ারী যে সাংস্কৃতিক তা-ব হয়েছিল, সে তা-বের বিরুদ্ধে আমরা র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর নেতৃত্বেই ঘুরে দাড়িয়েছি। তিতাস সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের সদস্য সচিব হৃদয় কামাল বলেন, ৩০ তারিখের নির্বাচনে সংস্কৃতিকর্মীদের পক্ষ থেকে রবিউল ভাইয়ের জয়ে দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাইতে হবে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্রবীণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব প্রাণতোষ চৌধুরী, সুরসম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনের অধ্যক্ষ হেলালউদ্দিন আহমেদসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন সাহিত্য একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক উপধ্যক্ষ এ.কে.এম শিবলী।-প্রেস বিজ্ঞপ্তি

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১