শিরোনাম

আইন-শৃংখলা বাহিনীর হাতে আটক হয়ে দীর্ঘদিন ভারতে থাকার পর

আখাউড়া স্থল বন্দর দিয়ে দেশে ফিরেছেন ছয় বাংলাদেশী

আখাউড়া প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার, ১৮ নভেম্বর ২০২১ | পড়া হয়েছে 59 বার

আখাউড়া স্থল বন্দর দিয়ে দেশে ফিরেছেন ছয় বাংলাদেশী

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আইন-শৃংখলা বাহিনীর হাতে আটক হয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভারতে থাকা ছয় বাংলাদেশী বৃহস্পতিবার ১৮ই নভেম্বর, ২০২১ দেশে ফিরেছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থল বন্দর দিয়ে তারা দেশে ফেরেন।
দেশে ফেরা ছয় বাংলাদেশী হলেন ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার চরকালি বাজাইল গ্রামের আল্পনা খাতুন, বগুড়া জেলার দুপচাচিয়া উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের জিয়ারুল ইসলাম, জামালপুর জেলা সদরের নারিকেলি গ্রামের মানিক মিয়া, ঢাকার কেরানীগঞ্জের রিনা আক্তার, কিশোরগঞ্জ জেলা সদরের ভাস্কর টিলা গ্রামের হানিফা আক্তার ও মৌলভী বাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার ডরিতাজপুর গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে শাহজাহান মিয়া।


ত্রিপুরার বাংলাদেশ বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের সহযোগিতায় ওই ছয়জনকে বাংলাদেশে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর একটায় আখাউড়া স্থলবন্দরের নো-ম্যান্স ল্যান্ডে তাদেরকে ভারত থেকে হস্তান্তরকালে ভারতের ত্রিপুরাস্থ বাংলাদেশ সহকারি কমিশনার কার্যালয়ের হাই কমিশনার মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন, প্রথম সচিব মোঃ রেজাউল হক, প্রথম সচিব ও দূতালয় প্রধান এস.এম আসাদুজ্জামান সহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশে উপস্থিত ছিলেন আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রুমানা আক্তার, বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মসূচী প্রধান শরিফুল হাসান, আখাউড়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ সাইফুল ইসলাম, আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মিজানুর রহমান, ইমিগ্রেশন পুলিশের ইনচার্জ মোঃ আব্দুল হামিদ, স্বেচ্ছাসেবক সৈয়দ খায়রুল আলম ও ভারত থেকে আসা ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা।

একাধিক নথিপত্র সূত্রে জানা গেছে, ফেরত আসা ছয় বাংলাদেশিই বিভিন্ন সময়ে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ত্রিপুরায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হতে আটক হন। পরে আদালতের নির্দেশে আগরতলার মর্ডান সাইক্রিয়াটিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এদের অনেকেই এই হাসপাতালে চার থেকে পাঁচ বছর বা আরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ার পর তাদের দেশে ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই হাসপাতালে পাচারের শিকার আরো অনেক বাংলাদেশি আছেন বলে জানা গেছে।

উদ্ধারকৃত জিয়ারুলের আত্মীয় মোহাম্মদ রাজ্জাক জানান, ২০১৪ সালে তাঁর স্ত্রীর বোনের স্বামী জিয়ারুল নিখোঁজ হয়ে যান। তিনি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। এমন একজন মানুষ কিভাবে ভারতে পাচার হলেন সেটা নিয়ে তারাও বিস্মিত।

আল্পনার চাচাতো ভাই দুলাল জানান, ১০ বছর আগে হঠাৎ করে একদিন তাদের বোন নিখোঁজ হন। অনেক পরে পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারেন আগরতলায় মানসিক হাসপাতালে আছেন। কিন্তু কীভাবে গেল আমরা বুঝতে পারছিনা।

হানিফা আক্তারের ছেলে ইয়াছিন জানান, পাঁচ বছর আগে হঠাৎ করে তাদের মা হারিয়ে যান। তাঁরা ভেবেছিলেন কোন আত্মীয়ের বাড়িতে গেছেন। পরে নানা বাড়ি করিমগঞ্জ থানায় খোঁজ করেন। কিন্তু পাননি। পরে মে মাসে জানতে পারেন আগরতলায় আছেন তার মা।

কেরানীগঞ্জ উপজেলার কলাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ তাহের আলী বলেন, একটি আনন্দের ঘটনার সাক্ষী হতে এসেছি। বছর দুয়েক আগে খবর পাই রীনা আক্তার ভারতে আছেন। এরপর সরকারি উদ্যোগে তাদেরকে দেশে আনা হয়।

পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পর ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের পক্ষ থেকে পাচারের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারবর্গদের জরুরি অর্থ সহায়তা এবং কাউন্সিলিং সেবা প্রদান করা হয় বলে জানান, বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মসূচী প্রধান শরিফুল হাসান। তিনি বলেন, তারা কিভাবে সেখানে গেলো সে বিষয়টি ভাবনার। তারা পাচারের শিকার হয়েছেন বলেও তিনি ধারণা পোষণ করেন।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০