শিরোনাম

আখাউড়া স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি আনেক কমেছে

| শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০১৬ | পড়া হয়েছে 500 বার

আখাউড়া স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি আনেক কমেছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরে রপ্তানি বাণিজ্যে ধস নেমেছে। এ বন্দরের শতাধিক আমদানি-রপ্তানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও বন্দরসংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। রপ্তানি কমে যাওয়ার পেছনে ট্রানজিটের মাধ্যমে ভারতীয় পণ্য পরিবহনের সুবিধা, ভারতের অভ্যন্তরে সড়ক ও রেলযোগাযোগ ভালো হওয়া এবং ডলারের বিপরীতে রুপির অবমূল্যায়নের কথা বলছেন ব্যবসায়ীরা।
এক বছর আগেও আখাউড়া স্থলবন্দরে রপ্তানিপণ্য বোঝাই ট্রাকের দীর্ঘ সারি দেখা যেত। কার আগে কে পণ্য পাঠাবে এ নিয়ে ব্যবসায়ীরা ব্যতিব্যস্ত থাকতেন। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ব্যবসায়ী-শ্রমিকদের উপস্থিতিতে বন্দর এলাকা সরগরম থাকত। গত কয়েক মাসে সেই চিরচেনা দৃশ্য পাল্টে গেছে। রপ্তানি কমে যাওয়ায় বন্দরে কোলাহল নেই। ব্যবসায়ী-শ্রমিকদের উপস্থিতিও অনেকাংশে কমে গেছে। এ বন্দরের শতাধিক আমদানি-রপ্তানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও বন্দরসংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। ব্যবসা কমে যাওয়ায় আমদানি-রপ্তানিকারকরা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন। রপ্তানি কমে যাওয়ার পেছনে ট্রানজিটের মাধ্যমে ভারতীয় পণ্য পরিবহনের সুবিধা, ভারতের অভ্যন্তরে সড়ক ও রেলযোগাযোগ ভালো হওয়া এবং ডলারের বিপরীতে রুপির অবমূল্যায়নের কথা বলছেন ব্যবসায়ীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পূর্ব ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয়সহ ৭টি রাজ্যে প্রবেশের অন্যতম দ্বার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর। ১৯৯৪ সালে এই স্থলবন্দরটি চালু হয়। এই স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন মাছ, পাথর, সিমেন্ট, ইট, বালি, শুঁটকি, প্লাস্টিক সামগ্রী, তুলাসহ প্রায় ৪২ প্রকারের বাংলাদেশি পণ্য ভারতে রপ্তানি হতো। এ বন্দর দিয়ে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হতো পাথর। প্রতিদিন ১০০-১৫০ ট্রাক পাথর ত্রিপুরায় রপ্তানি হতো। কিন্তু গত ৫-৬ মাসে পাথর রপ্তানি মারাত্মকভাবে কমে গেছে। এখন প্রতিদিন ১০-১৫ ট্রাক পাথর যায় ভারতে। মাছ রপ্তানিও আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে।
আখাউড়া স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোবারক হোসেন জানান, আগে এ বন্দর দিয়ে রড ও টিন রপ্তানি হতো কিন্তু এখন ট্রানজিটের মাধ্যমে ভারত রড ও জিসি শিট (টিন তৈরির শিট) নিয়ে যাচ্ছে। ফলে রড ও টিন রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সঙ্গে অন্য রাজ্যের রেল যোগাযোগ ভালো হওয়ায় সে দেশের ব্যবসায়ীরা কম খরচে রেলপথে পাথরসহ অন্য পণ্য নিয়ে আসছেন। অন্যদিকে ভারতে ডলারের দাম বেড়ে গিয়ে রুপির অবমূল্যায়ন হওয়ায় লোকসানের কারণেও আমদানিকারকরা আমদানি করতে চাইছেন না। ফলে এ বন্দরে কর্মরত শতাধিক আমদানি-রপ্তানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও শ্রমিকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। আখাউড়া স্থল শুল্ক কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, এক বছরের তুলনায় রপ্তানি বাণিজ্য অনেক কমে গেছে।


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০