শিরোনাম

আখাউড়া উপজেলায় ভিজিএফ এর চাউল আত্মসাতের অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা

আখাউড়া প্রতিনিধি : | সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮ | পড়া হয়েছে 244 বার

আখাউড়া উপজেলায় ভিজিএফ এর চাউল আত্মসাতের অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলায় ভিজিএফ এর চাউল আত্মসাতের অভিযোগে মনিয়ন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি বড়লৌহঘর গ্রামের বাসিন্দা খোরশিদ আলম ভূঁইয়া কিরন বাদি হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে ওই মামলা দায়ের করেন।

মামলা সূত্রে জানাগেছে, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মনিয়ন্দ ইউনিয়নের হতদরিদ্রদের জন্য ১৬ মেট্রিক টন চাউল বরাদ্দ দেয়া হয়। ১৬শ’ উপকারভোগী হতদরিদ্রকে জনপ্রতি ১০ কেজি করে এই চাউল বিতরণের ভিজিএফ প্রকল্প দেয়া হয়। গত ১০ জুন উপজেলা সরকারি গুদাম থেকে ১৬ মেট্রিক টন চাউল উত্তোলন করে ১২ জুন সকাল থেকে চাউল বিতরণ শুরু হয়। অভিযোগ উঠেছে, বিতরণের সময় ১০ কেজি চাউলের স্থলে দেয়া হচ্ছিল ৮ কেজি করে। তারপরও বেলা ২টার দিকে কার্ডধারী অর্ধশতাধিক দরিদ্রকে দেওয়া বাকি থাকতেই চাউল শেষ হয়ে গেছে ঘোষণা দিয়ে বিতরণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় তুমুল হৈ চৈ শুরু হয়।


বিকাল ৪টা পর্যন্ত মামলার বাদিসহ চাউল না পাওয়া দরিদ্ররা চাউলের দাবি করতে থাকলে চেয়ারম্যান কামাল ভূঁইয়া তাদেরকে বলেন, ‘চাউল ওজনে কম আসিয়াছে। বরাদ্দকৃত চাউল শেষ হয়ে গেছে।’ তিনি সবাইকে বাড়ি চলে যেতে বলেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চাউলের দাবিতে প্রতিবাদ করতে থাকলে এ সময় চেয়ারম্যান কামাল ভূঁইয়া ক্ষিপ্ত হয়ে ভিজিএফ কার্ড হোল্ডারদের কাছ থেকে জোরপূর্বক কার্ড ছিনিয়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেন।

সূত্রে প্রকাশ, ৫১জন হতদরিদ্র রিলিফ কার্ডধারিকে বরাদ্দকৃত প্রত্যেকের ১০ কেজি করে ৫১০ কেজি এবং যাদের মধ্যে চাউল বিতরণ করেছে তাদের প্রত্যেকের হতে দুই কেজি করে ওজনে কম দিয়ে সর্বমোট ৩ হাজার ৬০৮ কেজি চাউল আত্মসাৎ করেন ইউপি চেয়ারম্যান। যার বাজার মূল্য একলাখ ৪৪ হাজার ৩২০ টাকা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী মনিয়ন্দ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের নিয়ে চেয়ারম্যান ১৬শ’ জন উপকার ভোগীর মধ্যে ভিজিএফ এর চাউল বিতরণের তালিকা তৈরি করেন। এ সময় চেয়ারম্যানের ভিজিটিং কার্ডে ক্রমিক নম্বর সম্বলিত সিল ও স্বাক্ষর দিয়ে রিলিফ পাওয়ার উপযুক্তদের মাঝে কার্ড বিতরণ করা হয়। মামলার বাদি খোরশিদ আলম ভূঁইয়া কিরন দরিদ্র হিসাবে ‘১৫৬০’ ক্রমিক নম্বরের রিলিফ কার্ডধারী। তিনিসহ অর্ধশতাধিক উপকারভোগী হতদরিদ্র ভিজিএফ চাউল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন। পরে ওই আওয়ামী লীগ নেতা খোরশিদ আলম ভূঁইয়া কিরন বাদি হয়ে মনিয়ন্দ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে গত ২১জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে মামলা দায়ের করেন।

অবশ্য মনিয়ন্দ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল ভূঁইয়া তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যারা বাকি রয়েছে তারা চাউল নেয়ার জন্য আসেনি। তবে তাদের চাউল সংরক্ষিত আছে। প্রতিপক্ষ ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এ ধরণের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১