শিরোনাম

আখাউড়ায় ১২ টার মধ্যেই বিএনপি-জাপার ভোট বর্জন

প্রতিনিধি | রবিবার, ০৮ মে ২০১৬ | পড়া হয়েছে 320 বার

আখাউড়ায় ১২ টার মধ্যেই বিএনপি-জাপার ভোট বর্জন

বিএনপি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ভোট বর্জনের মধ্য দিয়ে গত শনিবার আখাউড়ার ৫টি ইউনিয়ন  পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে বিএনপির ৫, জাতীয় পার্টির ৫ ও ১জন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেছেন। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১২ টার মধ্যেই তারা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। বেলা ১১টায়  মোগড়া ইউনিয়নের উমেদপুর প্রা: বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৪/৫টি ককটেল বিস্কোরিত হলে কিছু সময়ের জন্য ভোট গ্রহণ বন্ধ থাকে। নির্বাচনী সহিংসতায় দুইজন আহত এবং কয়েকটি মাইক্রো বাসের কাচ ভাংচুর হয়েছে।আহরা হলেন দক্ষিণ ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর কেন্দ্রের বাবুল মিয়া (৪০) ও মনিয়ন্দ ইউনিয়নের তুলাই শিমুল কেন্দ্রের শাহাদাত হোসেন (২২)। এছাড়া রামধনগর সরকারী প্রা: বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোটের ছবি তুলতে গেলে এক সাংবাদিকের ক্যামেরা নিয়ে যায় এক পুলিশ সদস্য। পরে ক্যামেরায় ছবি মুছে ক্যামেরাটি ফেরত দেয়।
জানা যায়, সকাল সাড়ে ৯টায় আখাউড়া উত্তর ইউনিয়নে বিএনপি মনোনিত প্রার্থী আল আমিন ভূইয়া রামধননগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সম্মুখে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। এসময় তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী মো: হান্নান ভূইয়ার সমর্থকরা প্রতিটি কেন্দ্রের ভোট কক্ষের ভিতরে অবস্থান নিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে নৌকা প্রতীকে প্রকাশ্যে সিল মারছে। একই ইউনিয়নের জাতীয় পার্টি মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো: জামাল ভূইয়া ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন সকাল পোনে দশটায়। তার অভিযোগ, ভোটাররা নিজের ভোট নিজে দিতে পারছে না।
সকাল ১০টায় আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের বিএনপির মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহনেওয়াজ খান ও জাতীয় পার্টি মনোনিত প্রার্থী মো: মনিরুল ইসলাম অনিয়ম, কারচুপি ও জাল ভোটের অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জন করেন।
এছাড়া দুপুর ১২টার মধ্যেই মোগড়া, মনিয়ন্দ ও ধরখার ইউনিয়নের বিএনপি ও জাতীয় পার্টি মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা একই অভিযোগে ভোট বর্জন করেন।
আখাউড়া উত্তর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো: হান্নান ভূইয়া বলেন, নৌকার গণজেয়ার দেখে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সরে গেছে। কারচুপির অভিযোগ সত্য নয়।
এদিকে সকাল ১০টায় দক্ষিণ ইউনিয়নের আব্দুল্লহপুর কেন্দ্র থেকে ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে চেষ্টা করে দুবৃত্তরা। এসময় দুই সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এত বাবুল মিয়া (৪০) নামে এক ভোটার আহত হয়।
সকাল ৯টায় ৫০/৬০ জনের একদল যুবক মনিয়ন্দ ইউনিয়নের তুলাই শিমুল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রবেশ করে ভোটারদেরকে নৌকা প্রতীকে প্রকাশ্যে ভোট দিতে বলে। এসময় তারা জোর করে ভোটারদের কাছ থেকে চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে নৌকা প্রতীকে সিল মারতে থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শী মোস্তাফা মিয়া বলেন, সকাল ৯টার দিকে ৩/৪ টি মাইক্রো (হাইস), ১টি প্রাইভোট কার ও ৪/৫টি মোটর সাইকেল নিয়ে বহিরাগত ৭০/৮০ জন যুবক ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করে জোর পূর্বক ভোটারদের কাছ থেকে চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে নৌকা প্রতীকে সিল মারতে থাকে। এসময় নারী ভোটাররা ভয়ে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে যায়। ব্যালট পেপার দিতে রাজি না হওয়ায় শাহাদাত হোসেন (২২) নামে এক ভোটারকে পিটিয়ে আহত করে ওই যুবকরা। এসময় উত্তেজিত জনতা ২টি মাইক্রো বাসের জানালার কাঁচ ভাংচুর করে।
এদিকে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বহিরাগত কিছু যুবক মান্দাইল প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঢুকে নৌকা প্রতীকে সিল মেরে ফিরে যাওয়ার সময় উত্তেজিত জনতা একটি মাইক্রো বাসের জানালা ভাংচুর করে।
সরজমিনে আখাউড়ার কয়েকটি ভোট কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ভোট কক্ষের ভিতরে নৌকার ব্যাজ পরিহিত যুবকরা আগত ভোটারদের চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যালট পেপারটি রেখে দিয়ে তারা নিজেরাই নৌকা প্রতীকে সিল দিচ্ছে। বেলা সাড়ে বারটায় মনিয়ন্দ ইউনিয়নের তুলাই শিমুল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় একটি বুধ কক্ষে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ব্যালট পেপার নেই। এ ব্যাপারে ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার বদরুল ইসলাম বলেন, ওই বুথের চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যালট শেষ হয়ে গেছে। একই কেন্দ্রের ভোটার হাসিনা বেগম (৩৫) বলেন, ভোট কক্ষে গেলে আমাকে চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যালট ছাড়া অন্য ২টি ব্যালট পেপার দেওয়া হয়।
সকাল ১১টায় হীরাপুর প্রা: বিদ্যালয় কেন্দ্রের মহিলা ভোট কক্ষের ভিতরে পুরুষ ভোটারকে ভোট দিতে দেখা যায়।


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০