শিরোনাম

আখাউড়ায় শ্মশাণের জায়গা দখলের চেষ্টা

প্রতিনিধি | বুধবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৬ | পড়া হয়েছে 602 বার

আখাউড়ায় শ্মশাণের জায়গা দখলের চেষ্টা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার প্রশাসনের লোকজনের উপস্থিতিতেই পৌর এলাকায় অবস্থিত শ্রী শ্রী লোকনাথ সেবাশ্রম শান্তিবন মহাশ্মশাণের জমি দখলের চেষ্টা করা হয় বলে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা অভিযোগ করেছেন। এ নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এদিকে উদ্ভুদ পরিস্থিতিতে কর্মসূচী প্রদানসহ করণীয় বিষয়ে মহাশ্মশাণ কমিটির পক্ষ থেকে মঙ্গলবার রাতেই শ্রী শ্রী রাধামাধব আখড়ায় জরুরি সভা ডাকা হয়েছে। এ নিয়ে শহরে মাইকিং বের করা হয়। অন্যদিকে দখল চেষ্টাকারিরাও শ্মশাণের পাশে অবস্থান নিয়ে রেখেছেন।
খোঁজ নিয়ে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শ্মশাণের পাশের বাসিন্দা আনিসুর রহমান ২০১৪ উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন। রিট পিটিশনের এক আদেশে আদালত ২৭৫ দাগের জায়গা দুই মাসের মধ্যে চিহ্নতকরণের নির্দেশ দেন। এ অবস্থায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আখাউড়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মঈন উদ্দিন ইকবাল নালিশা ভূমির সীমানা চিহ্নিত করণের নিমিত্তে পরিমাপ করতে শান্তিবন মহাশ্মশাণে আসেন। এর আগে তিনি শ্মশাণ কর্তৃপক্ষকে উপস্থিত থাকার জন্য চিঠি দেন।
মঙ্গলবার দুপুরের দিকে মাপজোক শেষে নালিশা ভূমি মহাশ্মশাণের ভেতরে আছে বলে চিহ্নিত করা হয়। এ সময় প্রতিবেশি মো. আনিসুর রহমান ভূইয়া লোকজন নিয়ে শ্মশাণের ভেতর খুঁটি গাড়ার চেষ্টা করলে উত্তেজনা দেখা দেয়। উপস্থিত প্রশাসনের লোকজন এ সময় দখল করতে আসাদেরকে এ ধরণের কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার আহবান জানালে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হয়।
লোকনাথ সেবাশ্রম শান্তিবন মহাশ্মশাণ কমিটির সভাপতি হিরালাল চন্দ্র সাহা অভিযোগ করেন, আদালতকে অনেক কিছু গোপন রেখে ২৭৫ দাগের দেবোত্তর সম্পত্তি মাপজোকের আদেশ আনা হয়। ২০১৪ সালে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশনে বেধে দেওয়া দুই মাসের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এছাড়া জায়গাটি নিয়ে নি¤œ আদালতের নিষেধাজ্ঞা আছে উল্লেখ করলেও প্রশাসনের কেউ এতে কর্ণপাত করেননি।  সম্প্রতি হওয়া বিএস জরিপ নিয়ে মামলা করার কথা বললেও কেউ শুনেনি। এ অবস্থায় জায়গা চিহ্নিত হওয়ার পর আনিসুর রহমান দলবল নিয়ে তা দখলের চেষ্টা করেন। তবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আমাদেরকে আশ্বস্থ করেছেন যে, কেউ বেআইনিভাবে জায়গা দখলে নিতে পারবে না। আদালত জায়গার দখল বুঝিয়ে দেওয়ার কোনো আদেশ দেননি বলে তিনি কাগজপত্র দেখে আমাদেরকে এ বিষয়ে চিন্তা না করতে বলেছেন। ।
তবে আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, উল্লেখিত জায়গাটি তিনি ক্রয় সূত্রে মালিক। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক এখন তিনি ওই জায়গা বুঝে নিতে চান। মাপজোকের পর শ্মশাণের অভ্যন্তরেই তার মালিকাধীন জায়গা চিহ্নিত হয়েছে।
সহকারি কমিশনার (ভূমি) মঈন উদ্দিন ইকবাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘জায়গাটি মাপজোকে উচ্চ আদালতের একটি নির্দেশনা রয়েছে। জেলা প্রশাসকের পাঠানো চিঠির প্রেক্ষিতে আমরা জায়গা চিহ্নিত করেছি। জায়গাটি যে শ্মশানের অভ্যন্তরে আছে তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করে দেওয়া হবে। তবে কেউ অন্যায়ভাবে জায়গা দখল করতে পারবে না’।


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০