শিরোনাম

আখাউড়ায় বিদ্যুতের ভেল্কিবাজি ॥ জনজীবনে দুর্ভোগ

আখাউড়া প্রতিনিধি | সোমবার, ০১ জুন ২০২০ | পড়া হয়েছে 105 বার

আখাউড়ায় বিদ্যুতের ভেল্কিবাজি ॥ জনজীবনে দুর্ভোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিদ্যুতের ভেল্কিবাজি শুরু হয়েছে। বিদ্যুৎ এই আছে এই নাই অবস্থা। ২৪ ঘন্টায় ৩০/৩৫ বার যাওয়া আসা করে। এতে করে জন জীবনে দুর্ভোগসহ বিদ্যুৎচালিত পণ্যের ক্ষতি হচ্ছে।

গত কয়েক মাস ধরেই এ অবস্থা। কোথাও দুই তিনদিন টানা বিদ্যুৎ নেই। কোথাও প্রতিদিনই ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিং। করোনাকালীন সময়ে ঘরবন্দি মানুষ নিয়মিত টিভিও দেখতে পারছেনা বিদ্যুতের অভাবে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়া-আসায় নষ্ট হচ্ছে ইলেকট্রনিকস পণ্য। এর মধ্যে তো গ্রাহকদের ‘ভুতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিলের যন্ত্রণাতো আছেই। সব মিলিয়ে করোনাকালে বিদ্যুতের ভেল্কিবাজি যেন বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে আখাউড়ায়।


তবে বিদ্যুতের ভেল্কিবাজিতে সংশ্লিষ্টদের যেন কোনো নজরই নেই। সমস্যা সমাধানে গাফিলতির পাশাপাশি কর্তা ব্যক্তিদেরকে ফোন করলে বিরক্ত হয়ে নানা কটু কথা শুনিয়ে দেয়ার নজিরও আছে।

গত শুক্রবার বেলা পৌণে ১১টার দিকে মোবাইল ফোনে কথা হলে পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মোঃ আবুল বাশার বলেন, ‘ঝড়ে তার ছিড়ে যাওয়া, গাছ ভেঙ্গে পড়ায় বিদ্যুতের সমস্যা দেখা দেয়। পৌর এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটা থেকে আর বিদ্যুৎ যায় নি।’

যদিও ওনি কথা বলার পর থেকে সন্ধ্যা ছয়টা নাগাদ পৌর এলাকায় তিন-চারবার বিদ্যুৎ যাওয়া আসা করে। নানা সমস্যার কারণে বিদ্যুৎ না থাকার বিষয়টি সবাইকে বুঝতে হবে বলে তিনি এ প্রতিবেদককে পরামর্শ দেন।
তিনি জানান, একেবারে শতভাগ সেবা দেয়া যাচ্ছে সেটা তো বলা যাচ্ছে না। আমাদের সীমিত সাধ্যের মধ্যে সবটুকুই দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আখাউড়ার বর্তমান সাবস্টেশনটি পুরোনো। মোগড়ায় যে সাবস্টেশন হচ্ছে সেটির কাজ শেষ হলে কোনো সমস্যা থাকবে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত মাস তিনেক ধরেই আখাউড়ায় বিদুতের বেহাল অবস্থা। পৌর এলাকায় প্রতিদিন গড়ে দুই-তিন ঘন্টা লোডশেডিং থাকছে। এছাড়া কোনো কোনো দিন ৩০-৪০ বার বিদ্যুৎ যাওয়া আসা করছে। তবে গ্রাম পর্যায়ে চিত্র একেবারেই ভিন্ন। সামান্য কোনো ত্রুটির কথা বলে কোথাও কোথাও দুই তিন পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। অভিযোগ কেন্দ্রের ফোন নম্বরে কল করলেও কেউ রিসিভ করেন না। আবার ডিজিএমকে ফোন করলে তিনি বিরক্ত হন। এজিএমকে ফোন দিলে তিনি বিরক্ত না হলেও সমস্যা সমাধানে খুব একটা ভূমিকা রাখতে পারছেন না। নতুন ডিজিএম যোগদানের পর থেকেই এ অবস্থা শুরু হয়েছে বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন।

উপজেলার মনিয়ন্দ গ্রামের রিয়াদ চৌধুরী বিদ্যুতের সমস্যা নিয়ে ডিজিএম’র সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের অডিও রেকর্ড শুনান। ফোন করায় ডিজিএমকে বেশ বিরক্ত হতে শুনা যায় ওই রেকর্ডে। হাসান মাহমুদ পারভেজ জানান, নুরপুর এলাকায় ট্রান্সফরমারে সমস্যা দেখা দিলে ডিজিএমকে জানানোর পর তিনি বিরক্ত হয়ে বিদ্যুত বিলের কাগজে থাকা ফোন নম্বরে কল করতে বলেন। মনিয়ন্দের হৃদয় খন্দকার নামে এক যুবক জানান, সন্ধ্যা ছয়টা ১৯ মিনিটের সময় তার এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। মসজিদ পাড়ার যুবলীগ নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন স্বপন জানান, ঈদের পর কতবার বিদ্যুৎ যাওয়া আসা করেছে সেটার হিসেব রাখতে একজন বেতনধারী কর্মচারি প্রয়োজন।

মৌসুমী আক্তার নামে এক শিক্ষক ফেসবুকে লিখেছেন, ‘মনে হয় ফ্রি চালাই। দিলে দিলো না দিলে নাই। কিন্তু মাস শেষে গড় বিলের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে জোঁকের মতো টাকা শুষে নিচ্ছে।’ শিক্ষক প্রভাতী বণিক লিখেছেন, ‘পরিস্থিতি ভালো হোক আর খারাপ হোক। বিলের বাহার কিন্তু দেখার মতো, তিন মাসে তিন গুন।’

ধরখারের সীমান্ত চৌধুরী নামে একজন জানান, গত পাঁচ বছরে বিদ্যুতের এমন পরিস্থিতি হয় নি। সামান্য ঝড় বৃষ্টি হলেই মনিয়ন্দে বিদ্যুৎ পেতে দুইদিন সময় লাগে বলে জানিয়েছেন কাউছার মোল্লা। গঙ্গানগরের সৈকত আহসান জানান, ঈদের পর থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। দেবগ্রাম পূর্বপাড়ার শিপন দেওয়ান জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টার বিদ্যুৎ গিয়ে ১২টা ১০ নাগাদ আসেনি। একই সময়ে সাতপাড়ায় বিদ্যুৎ যায় বলে জানিয়েছেন ওই এলাকার রুবেল আহমেদ।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১