শিরোনাম

আখাউড়ায় প্রতিপক্ষ নয়, বিরোধে জিততে মাকে খুন করে ছেলে ॥ আদালতে জবানবন্দী

আখাউড়া প্রতিনিধি | সোমবার, ০৩ জানুয়ারি ২০২২ | পড়া হয়েছে 115 বার

আখাউড়ায় প্রতিপক্ষ নয়, বিরোধে জিততে মাকে খুন করে ছেলে ॥ আদালতে জবানবন্দী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর এলাকার শান্তিনগর গ্রামে বৃদ্ধা জোহারা খাতুনকে-(৭৮) কুপিয়ে খুন করে তাঁরই ছোট ছেলে জামির খাঁ। জমি নিয়ে ৩৬ বছর ধরে চলা বিরোধে প্রতিপক্ষকে ফাঁসিয়ে নিজেরা সুবিধা নিতে এই হত্যাকান্ড ঘটানো হয়। নিহত জোহরা খাতুন শান্তিনগর গ্রামের প্রয়াত রশিদ খাঁর স্ত্রী।

পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর জামির খাঁ হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করেছে। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত দা জামিরের ঘর থেকে উদ্ধারের পর সন্দেহ হলে পুলিশ তাকে আটক করে।


পরিবারের লোকজনদের সামনে মুখোমুখি করার পর জামির খাঁ হত্যাকান্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে জানায়, বিরোধে অতিষ্ঠ হয়ে রাগের মাথায় এই কান্ড করেছেন।

সোমবার ৩রা জানুয়ারি, ২০২২ দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত জামির খাঁকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট জহিরুল ইসলামের আদালতে সোপর্দ করা হলে জামির হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করেন। গত রোববার দুপুরে বৃদ্ধা জোহরা খাতুনকে নিজ বাড়িতে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।

এ ঘটনায় জামিরের বড় ভাই জাহাঙ্গীর বাদী হয়ে আখাউড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

রোববার দুপুরে জামির খাঁর পরিবারের লোকজন অভিযোগ করে বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিবেশি আত্মীয়রা বৃদ্ধা জোহরা খাতুনকে খুন করেছে। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিপক্ষের তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে রাতে পুলিশ জামিরকে আটক করে।

স্থানীয়রা জানান, প্রয়াত রশিদ খাঁর পরিবারের সাথে প্রতিবেশি আত্মীয় বজলু খাঁর পরিবারের জায়গা নিয়ে বিরোধ ছিলো। সম্প্রতি আদালতের রায় রশিদ খাঁর পক্ষে গেলে রশিদ খাঁর পরিবারের লোকজন জায়গাটি দখলে নিয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মান করে।

গত রোববার দুপুরে ওই জায়গার সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলে প্রতিপক্ষের লোকজন। পরে তারা রশিদ খাঁর বাড়িতে হামলা করে।

ঘটনার পর তাৎক্ষনিকভাবে বৃদ্ধার ছেলে জাহাঙ্গীর খাঁ অভিযোগ করে বলেন, জায়গা নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষ ফজল খাঁ, ইয়াছিন খাঁসহ আরো কয়েকজন হামলা করে। বাড়িতে ঢুকে তারা এই হত্যাকান্ড চালায়।

ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ শিপন হায়দার জানান, জমি নিয়ে বিরোধে চাচাতো নাতিসহ অন্যরা এ হামলা চালায় বলে পরিবারের লোকজন অভিযোগ করেছেন। পুলিশ তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

এদিকে একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, বিভিন্নভাবে তদন্ত করে পুলিশ হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচনে মাঠে নামে। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত দা নিহতের বাড়িতে পাওয়া গেলে সন্দেহ পাকাপোক্ত হয় পুলিশের। নিহতের ছেলে জামিরকে আটকের পরই ঘটনার মোড় ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। এক পর্যায়ে পুলিশ কখনো কঠোর হয়ে কখনো কৌশলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকেন। তাকে পরিবারের লোকজনের সামনে এনে বিভিন্ন বিষয় জানতে চাইলে এক পর্যায়ে সে হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে।

জামির পুলিশকে জানায়, জায়গা নিয়ে বিরোধে তারা ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে গেছেন। আদালতের রায় পেলেও তারা ভোগদখল করতে পারছিলেন না। গত রোববার প্রতিপক্ষ জায়গার সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে বাড়িতে হামলা করলে তাদেরকে ফাঁসানোর জন্য হুট করে রাগের মাথায় মাকে হত্যা করেন।

এ ব্যাপারে আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মিজানুর রহমান সোমবার বিকেলে জানান, সন্দেহ হলে জামিরকে থানায় আনা হয়। পরবর্তীতে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে। সোমবার দুপুরে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির জন্য জামিরকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, রোববার গ্রেপ্তারকৃত প্রতিপক্ষের তিনজনের বিরুদ্ধে বেআইনী দলবদ্ধ হয়ে আক্রমনের অভিযোগে মামলা হয়েছে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১