শিরোনাম

আখাউড়ায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার সহযোগি বিএনপি কর্মী

প্রতিনিধি | মঙ্গলবার, ১০ মে ২০১৬ | পড়া হয়েছে 286 বার

আখাউড়ায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার সহযোগি বিএনপি কর্মী

আখাউড়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনিত প্রার্থীরা আওয়ামীলীগ প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জন করেন।  সকাল সোয়া ৯টা থেকে দুপুর ১২ টার মধ্যেই তারা একে একে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। বিএনপি প্রার্থীদের নির্বাচন বর্জন করার পেছনে আওয়ামীলীগের ভোট কারচুপির পাশাপাশি বিএনপি নেতা-কর্মীদের ভূমিকা নিয়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা। ভোট গ্রহণের দিন উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের র্শীষ নেতারা মাঠে ছিল না। ধানের শীষের ব্যাজ পরিহিত কোন কর্মী-সমর্থককেও দেখা যায় নি। বিএনপির একাধিক প্রার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, আওয়ামীলীগ প্রার্থীকে বিজয়ী করতে নৌকায় সিল মারার কাজে সহযোগিতা করেছেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতা। গত ৭ মে অনুষ্ঠিত হয় আখাউড়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের নির্বাচন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আখাউড়া উত্তর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জহিরুল ইসলাম রামধননগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের একটি ভোট কক্ষের ভিতরে ব্যালট বাক্সের সামনে বসা ছিলেন। তিনি ওই কেন্দ্রের ভোটার নন। কোন প্রার্থীর এজেন্টও ছিলেন না। এসময় তিনি ভোটারদের কাছ থেকে চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যালট রেখে নৌকায় সিল মারার কাজে সহযোগিতা করেন। ওয়ার্ড বিএনপি সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান, বিএনপির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক স¤পাদক মান্নান মিয়া, যুবদল সেক্রেটারি ইউসুফ চৌধুরী, সাংগঠনিক স¤পাদক ইয়ার হোসেন, ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান, মোগড়া ইউনিয়নের ছাত্রদল সভাপতি আবু বক্কর, স্বেচ্ছা সেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান নৌকার পক্ষে প্রকাশ্যে কাজ করেছেন। ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করে একজন সদস্য প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে ভোট কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া  ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মাসুম মিয়া আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী মো: মনির হোসেনের সাথে আঁতাত করে নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। স্বেচ্ছা সেবক দলের সভাপতি মাহমুদুল হাসান মোগড়া ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের প্রার্থী মনির হোসেনের ব্যাজ লাগিয়ে ধাতুর পহেলা কেন্দ্রে নৌকার পক্ষে কাজ করেন।
উত্তর ইউনিয়নের বিএনপির পরাজিত প্রার্থী মো: আল আমিন ভূইয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইউনিয়ন বিএনপির কয়েকজন নীতি বিবর্জিত নেতা আওয়ামীলীগের প্রার্থীকে পাশ করাতে নৌকার কর্মীদের সহযোগি হয়ে কাজ করেছে। তারা ভোটের আগের দিন আমার ব্যাজ ঝুলিয়ে ফটোসেশন করেছে আর ভোটের দিন নৌকার দালালী করেছে। তিনি সংগঠন বিরোধী এসব নেতাদের দল থেকে বহিস্কারের দাবী জানান।
মনিয়ন্দ ইউনিয়নের বিএনপির পরাজিত প্রার্থী মো: রবিউল্লাহ ভূইয়া বলেন, আওয়ামীলীগ প্রার্থীর বহিরাগত ক্যাডাররা কেন্দ্র দখল করে নৌকায় সিল মেরে তার বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে। তার অভিযোগ, বিএনপির তৃনমূলের কর্মীরা আন্তরিকভাবে কাজ করলেও ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপির শীর্ষ নেতারা ছিলেন নিষ্ক্রিয়।
মোগড়া ইউনিয়নের বিএনপির পরাজিত প্রার্থী মো: নান্নু মিয়ার কাছে পরাজয়ের পেছনে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর ভোট ডাকাতির পাশাপাশি বিএনপি ও ছাত্রদলের কিছু নেতার দল বিরোধী কর্মকান্ডকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন মোগড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ও মেম্বার প্রার্থী আবু বক্কর, স্বেচ্ছা সেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান আওয়ামীলীগ প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে কাজ করেছেন। তাছাড়া ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মাসুম মিয়া নৌকার সাথে আঁতাত করে জাল ভোটে সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। থানা বিএনপি ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে আশানুরূপ সহযোগিতা পাননি বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে আখাউড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জি. মুসলিম মিয়া বলেন, বিএনপি ও ছাত্রদলের কিছু নেতা-কর্মীর ব্যাপারে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।  তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০