শিরোনাম

সরাইলে হেফাজতি তান্ডবের ঘটনায়

আওয়ামীলীগ সভাপতির তিন ছেলে জড়িত থাকার অভিযোগ ॥ একজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

স্টাফ রিপোর্টার | রবিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২১ | পড়া হয়েছে 122 বার

আওয়ামীলীগ সভাপতির তিন ছেলে জড়িত থাকার অভিযোগ ॥ একজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরাইলে হেফাজতের তান্ডবের সময় উপজেলার অরুয়াইল বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও অরুয়াইল পুলিশ ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু তালেবের তিন ছেলে জড়িত ছিলেন বলে এলাকায় আলোচনা হচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হলেও প্রভাবশালী আবু তালেবের ভয়ে তারা মুখ খুলতে পারছে না।

অরুয়াইল পুলিশ ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় পুলিশের এস.আই সজল মজুমদার বাদি হয়ে ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে ৬৫ জনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাতনামা আরো এক হাজার দুইশত লোককে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু তালেবের ছোট ছেলে ইসমাইল হোসেনকে আসামী করা হয় (৩০নং আসামি)। পুলিশ এ পর্যন্ত এই মামলার ১১জন আসামীকে গ্রেপ্তার করে।


অভিযোগ রয়েছে বিক্ষোভ মিছিল ও পুলিশ ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় আবু তালেবের অপর দুই ছেলে হাফেজ জাকারিয়া মাহমুদ ও ইউনুছ জড়িত ছিলেনে। তারা মিছিলে নেতৃত্ব দেন।

অরুয়াইল বাজারে বিক্ষোভ ও পুলিশ ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় তাদের জড়িত থাকার ছবি ও ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

পুলিশ ইতিমধ্যেই হামলার ঘটনায় আওয়ামীলীগ নেতার তিন ছেলে জড়িত থাকার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছে।

এলাকাবাসী জানান, মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তির অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমনের প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীরা গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলায় ব্যাপক তান্ডব চালায়। এরই অংশ হিসেবে ২৭ মার্চ বিকেলে সরাইল উপজেলার অরুয়াইল বাজারে মোদি বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল বের করেন সেখানকার হেফাজত-কর্মী-সমর্থকরা। মিছিলকারীরা বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে এক পর্যায়ে অরুয়াইল পুলিশ ক্যাম্পে হামলা করে।

তাদের হামলায় সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) কবির হোসেন, অরুয়াইল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সহ ২৫ পুলিশ সদস্য আহত হন।

এ ঘটনায় পুলিশের এস.আই সজল মজুমদার বাদি হয়ে ৬৫ জনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাতনামা আরো এক হাজার দুইশত লোককে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু তালেবের ছোট ছেলে ইসমাইল হোসেনকে এই মামলায় আসামী করা হয়।

হামলার ঘটনার পর থেকেই ক্ষতিগ্রস্থ অরুয়াইল পুলিশ ক্যাম্পটি বন্ধ রয়েছে।

এদিকে পুলিশ ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের পরও প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করেন আবু তালেবের ছেলেরা।

এদিকে অরুয়াইল পুলিশ ক্যাম্পটি বন্ধ থাকায় সরাইল থানা থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরবর্তী এলাকায় পুলিশ আসার খবর অগ্রিম জেনে আসামীরা পালিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে অরুয়াইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু তালেব সাংবাদিকদের জানান, এটি তার পরিবারের বিরুদ্ধে তার প্রতিপক্ষদের একটি ষড়যন্ত্র। প্রতিপক্ষরা তাদের সুনাম নষ্ট করার জন্য এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি বলেন, আমার পরিবারের কেউ বিক্ষোভ মিছিলে যায়নি। অরুয়াইল বাজারে আমাদের একশো’র বেশি দোকানপাট রয়েছে। বিক্ষোভকারীরা যেন আমাদের দোকানে কোন ধরনের হামলা না করতে পারে সে জন্যেই আমার ছেলেরা সেদিন পাহারায় ছিল। হামলাকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেছিল।
হামলার ঘটনায় আপনার ছেলেদের ফুটেজ-ভিডিও আছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইউনিয়নের ধামাউড়া গ্রাম থেকে আসা মিছিলের লোকেরা এখানে তান্ডব চালিয়েছে। আমার ছেলেরা এ ঘটনায় জড়িত নয়। বিষয়টি পুলিশও অবগত আছে।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, পুলিশ ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় এ পর্যন্ত ১১জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকীদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, মামলায় অরুয়াইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু তালেবের ছেলে ইসমাইল হোসেন এফআইআরভুক্ত আসামী। অপর দুই ছেলের বিরুদ্ধেও আমরা তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করছি। ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এর সত্যতাও পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে সরাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও হামলার দিন অরুয়াইল পুলিশ ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনকালে আহত কবির হোসেন বলেন, আমরা ঘটনার সময়ের ভিডিও ফুটেজগুলো পর্যালোচনা করে হামলার সাথে জড়িত স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু তালেবের তিন ছেলেকে সনাক্ত করতে পেরেছি। এর মধ্যে এক ছেলেকে ইতিমধ্যে মামলার আসামী করা হয়েছে। বাকীদের বিষয়েও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

এ ব্যাপারে সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক অ্যাডভোকেট নাজমুল হোসেন বলেন, অরুয়াইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু তালেবের ৩ ছেলে অরুয়াইল পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি আমরা লোকমুখে জানতে পেরেছি। বিষয়টি আমরা দলগত ভাবে খতিয়ে দেখব। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত সময়ের মধ্যে তার বিরুদ্ধে জেলা কমিটির কাছে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সুপারিশ করবো।

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আল মামুন সরকার বলেন, অরুয়াইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু তালেবের ছেলেদের জড়িত থাকার বিষয়টি অবগত হয়েছি। সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তির অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমনের প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীরা গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ চালায়।

এসময় হামলাকারীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন, পৌরসভা কার্যালয়, সুর সম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন, এসিল্যান্ডের কার্যালয়, সুর সম্রাট আলাউদ্দিন খাঁ পৌর মিলনায়তন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, সিভিল সার্জনের কার্যালয়, জেলা মৎস্য অফিস, সার্কিট হাউজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব, মাতৃ সদন, সরকারি গণগ্রন্থাগার, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকারের বাসভবন, জেলা শিল্পকলা একাডেমী, বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর দুটি ম্যুরালসহ তিনটি ম্যুরাল, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে উন্নয়ন মেলার প্যান্ডেল, একই চত্বরে থাকা শহর সমাজসেবা প্রকল্পের অফিস, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের অফিস, পৌর মেয়রের বাসভবন, সার্কিট হাউজ, হাইওয়ে থানা ভবন, ইউনিভার্সিটি অব ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ক্যাম্পাস, হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দক্ষিণ কালীবাড়ি, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির বাসভবন, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের বাসভবন, আশুগঞ্জ টোলপ্লাজা, সুহিলপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়সহ সরকারি, বেসরকারি প্রায় অর্ধশতাধিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ করে পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে মৃত্যুপুরিতে পরিনত করে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১