শিরোনাম

ইউএনওর কাছে ব্যবস্থা নিতে চিঠি

আইন ভেঙে শতবর্ষী পুকুর ভরাট

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি : | বুধবার, ০৪ অক্টোবর ২০১৭ | পড়া হয়েছে 160 বার

আইন ভেঙে শতবর্ষী পুকুর ভরাট

পরিবেশ সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন করে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রূপসদী গ্রামে শতবর্ষী একটি পুকুর ভরাট করা হয়েছে। স্থানীয় এক ইউপি সদস্যসহ প্রশাসনের দুই ব্যক্তি শ্রমিক নিয়োগ করে পুকুরটি ভরাট করেছেন। পুকুরটি ভরাট করে ফেলায় স্থানীয় লোকজন এখানে গোসল, জামাকাপড় ধোঁয়াসহ মাছ চাষও করতে পারছেন না।
পুকুর ভরাটকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে ১৭ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি প্রতিবেদন দিয়েছেন রূপসদী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম।
রূপসদী ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯১৩ সালে উপজেলার রূপসদী গ্রামের উত্তরপাড়ায় তৎকালীন জমিদার হরিমোহন পালের বাড়ি নির্মাণ করতে ৫৫ শতক জমিতে একটি পুকুর কাটা হয়। দুই সপ্তাহ আগ থেকে স্থানীয় রূপসদী ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ফারুক মিয়া ও স্থানীয় কিংকর রায় ওই জমি নিজেদের দাবি করে পুকুরটি ভরাট শুরু করেন। অথচ বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ৬-এর ঙ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, বলবৎ অন্য কোনো আইনে যে কিছুই থাকুক না কেন, জলাধার হিসেবে চিহ্নিত জায়গা ভরাট ও অন্য কোনোভাবে এর শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না। এই আইন অমান্যকারীকে (প্রথমবার হলে) অনধিক দুই বছর কারাদণ্ড বা অনধিক দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোসাব্বের হোসেন জানান, ‘পুকুর ভরাট করা পরিবেশ আইনের পরিপন্থী। আমি শুনেছি, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রূপসদী গ্রামে শতবর্ষী একটি পুকুর ভরাট করা হচ্ছে। ভরাটকারীদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পুকুর ভরাটের বিরোধিতা করে স্থানীয় কয়েকজন বলেন, গ্রামের কয়েকজন ১০ বছর ধরে মাছ চাষ করছেন। পুকুরটি ভরাট করে ফেলায় তাঁদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে।
রূপসদী গ্রামের তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি কয়েক বছর ধইরা এই পুকুরডাতে মাছ চাষ করতাছি। এই পুকুরে ভালো মাছ হয়। মাছ চাষ কইরা বছরে দুই-তিন লাখ টাকা আয় হইতো। এইবারও আমি মাছ চাষ করছিলাম, কিন্তু আমারে না জানাইয়া পুকুরডা ভইরা ফালাইছে ফারুক মেম্বার আর কিংকর রায়। এই পুকুরে অনেক লোকে গোসল করত।’
এদিকে পুকুর ভরাটের বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এর কাছে পাঠানো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রূপসদী মৌজার ১৭০ দাগের ৫৫ শতক জমিতে একটি পুকুর আছে। কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে ভরাট করার খবর শুনে রূপসদী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সহকারী ভূমি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম সরেজমিনে ভরাট করার অভিযোগের সত্যতা পান এবং ভরাট বন্ধ করতে বাধা দেন। পুকুরটি ফারুক মিয়া এবং কিংকর রায় নিজ জমি থেকে বালু তুলে ভরাট করছেন। রূপসদী ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত সহকারী ভূমি কর্মকর্তা জানান, ‘এ বিষয়ে ইউএনও স্যারকে আমি একটি প্রতিবেদনও দিয়েছি।’
গত বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, পুকুরের বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছে গেছে। পুকুরের প্রায় ৫০০ মিটার উত্তর-পূর্ব দিকের কৃষি জমি থেকে শ্যালোইঞ্জিনচালিত যন্ত্র দিয়ে বালু তুলে তা পাইপের মাধ্যমে এনে পুকুর ভরাটের কাজ করছেন শ্রমিকেরা।
কিংকর রায় বলেন, ‘জমিদারবাড়ির পুকুরটির এখন ৮-১০ জন মালিক রয়েছে। আমি ও ফারুক মেম্বার মিলে পুরো পুকুর ভরাট জরছিলাম। ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা বাধা দেওয়ায় কাজ বন্ধ রেখেছি। অনুমতি না নিয়ে পুকুরটি ভরাট করায় আমাদের ভুল হয়েছে।’
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য ফারুক মিয়া বলেন, ‘পুকুরের বেশির ভাগ জায়গাই ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভরাট করা হয়েছে। পুকুরটি অনুমতি না নিয়েই ভরাট করছিলাম। এখন অনুমতি নেওয়ার জন্য ঢাকাসহ বিভিন্নস্থানে কাগজপত্র নিয়ে ঘুরছি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শওকত ওসমান জানান, ‘রূপসদীতে একটি পুরোনো পুকুর ভরাট করার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন পেয়েছি। অবৈধভাবে পুকুর ভরাটকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০