শিরোনাম

নেপাল প্লেন দুর্ঘটনা ট্রাজেডীর ২য় দিনে আঁখিদের পরিবার রয়েছে লাশের অপেক্ষায়

‘আঁখির মেহেদীমাখা নিথর হাতে এখনো হিরার আংটিটি চক্চক্ করছে’

বাঞ্ছারামপুর প্রতিনিধি : | বৃহস্পতিবার, ১৫ মার্চ ২০১৮ | পড়া হয়েছে 246 বার

‘আঁখির মেহেদীমাখা নিথর হাতে এখনো হিরার আংটিটি চক্চক্ করছে’

আঁখি ও মিনহাজ। মাত্র এক সপ্তাহ আগে এক সুতায় জীবন বেঁধেছিলেন। হিমালয়কন্যা নেপালে যাচ্ছিলেন মধুচন্দ্রিমায়। তাদের ভালোবাসার জীবনের সমাপ্তি ঘটল নেপালের কাঠমান্ডু ত্রিভুবন বিমান বন্দরে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায়। পরিবারের সদস্যরা জানায়, আঁখি মনি ওরফে ফারিয়া জেসি ও মিনহাজ বিন নাসিরের বাসা রাজধানীর মহাখালীতে। আঁখির বাবা রফিকুল ইসলাম কখনো ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুরে কখনো ঢাকার রামপুরায় থাকেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তাদের গায়ে হলুদ আর ৩ মার্চ বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ছিল। সোশ্যাল নেটওয়ার্কে আঁখির মেহেদী রাঙ্গানো নিথর হাত ও হাতের অনামিকায় হিরের দুটি আংটির ছবিটি রীতিমতো ভাইরাল।

নেপাল বিমান দূর্ঘটনায় নিহত আঁখির লাশের অপেক্ষায় রয়েছে রামপুরার বাসায় তাদের সব আত্মীয় স্বজন। চলছে শোকের মাতম।


আঁখি ও সাকিব দুই পিঠাপিঠি ভাইবোন। সাকিব আঁখির ২ বছরের ছোট। সাকিব জানায়, আব্বু  (রফিকুল ইসলাম পেশকার মিয়া) নেপালে। লাশ ময়নাতদন্ত শেষে দিবে। লাশ না-কি পুড়ে গেছে। আপুকে আব্বু চিনতে পেরেছে বিয়ের আংটি ও হাতে মেহেদী দেখে। মৃত্যুর পরও আপুর হাতের আঙ্গুলে দুটি ডায়মন্ডের আংটি চক্ চক্ করছিলো বলে জানতে পেরেছি। আঁখি আপু এশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে পড়তো। আমরা দু’ ভাইবোন বন্ধুর মতো মিশতাম। গত ১২ মার্চ এয়ারপোর্ট থেকেও আপু আমাকে ফোন করে বলেছে, আমার বিয়ে হয়ে গেছে বলে তোরা কেউ যদি আমাকে অবহেলা করিস তবে আমি আর ফিরবো না’-এই বলে ফোন কেটে দেয়।

আঁখিদের দেশের বাড়ি বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রুপসদী গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রতিবেশী মো. তুহিনুল ইসলাম তুহিন বলেন, ‘‘আঁখি আপাদের বাবা রফিকুল ইসলাম পেশকার মিয়া একজন ক্যামিকেল ব্যবসায়ী। আগে সিএন্ডএফ ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন। দেশে আসতেন মাঝে মধ্যে। তখন বলতেন, আমার মেয়েকে একদিন সারা দেশের মানুষ চিনবে, জানবে। তোরা টিভিতে তাকে দেখতে পাবি । কিন্তু সে দেখা যে এমন বিভৎস মৃত্যু দিয়ে হবে তা বুঝিনি। এ বেদনার ভার অসহনীয়।

আঁখির চাচাতো ভাই জাহিদ হোসেন এই নবদম্পতির বিয়ের অনেক ছবি ফেসবুকে দিয়ে লেখেন, ‘কোনো দিন ভাবতে পারিনি এইভাবে চলে যাবে। তোমাদের আর হানিমুন করা হলো না আপু। ৭ দিন আগে বিয়ে হলো আর আজ তোমরা নেই। তোমাদের মৃত্যু আল্লাহ জান্নাতে কবুল করুক।’

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১