শিরোনাম

অর্থাভাবে মানসিক রোগী আঁখির উন্নত চিকিৎসা হচ্ছেনা

ডেস্ক ২৪ | সোমবার, ২৭ জুন ২০১৬ | পড়া হয়েছে 212 বার

অর্থাভাবে মানসিক রোগী আঁখির উন্নত চিকিৎসা হচ্ছেনা

চপলতা আর দুরন্তপনায় যার শৈশব কেটেছে সেই আখিঁই এখন নিস্ব রিক্ত একাকী। বিয়ের কিছু দিনের মধ্যেই হয়েছে স্বামী হারা। এখন পিতা হারা হয়ে পিতার পরিবারেও কিছুটা অবহেলিত। আখিঁর এক সময়ের স্কুল জীবন ও কলেজ জীবনে বান্ধবির অভাব ছিলনা । সেই আকলিমা আক্তার আঁখি(৩৫) এখন অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসার বন্দোবস্ত না হওয়ায় ধুঁকে ধুঁকে বর্তমানে মৃত্যু পথযাত্রী।
সরেজমিনে ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা গেছে , নবীনগরের বিটঘর ইউনিয়নের দুরুইল গ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত মাঠকর্মী আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল মতিউর রহমানের দুই ছেলে ,চার মেয়ের মধ্যে আঁখি দ্বিতীয় সন্তান। উচ্চ মাধ্যমিক পাশ ও সুশ্রী আখিঁকে ২০০০ সালে একই উপজেলার বাসারুক গ্রামে বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের পর অসুখী দাম্পত্য জীবনের কারনে তার মাঝে মানসিক অপ্রকৃতিস্থতা দেখা দেয়। ফলে প্রায় তিন বছর পুর্বে তার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে । এ অবস্থায় তিন মাস পুর্বে আখিঁর পিতা মতিউর রহমান মারা যাওয়ার পর তার চিকিৎসা সংকট আরও প্রকট হয়ে ওঠে এবং পিতা হারা হয়ে পিতার পরিবারেও কিছুটা অবহেলিত । আঁখির দেড় বছর বয়সে তার মা মারা যায় । বাবা পরে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। তার দ্বিতীয় মা সুহেলা বেগম প্রকৃত মায়ের মত পরম মমতায় সংসারটিকে আগলে রেখেছেন । আঁখির মানসিক সমস্যা দিন দিনই গুরুতর হচ্ছে । বর্তমানে আঁখির সম্পুর্ণ সেবা শুশ্রƒষা করছেন সুহেলা বেগম । কিন্তু অর্থাভাবে কোন ক্রমেই তার উন্নত চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছেনা ।
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নারী নেত্রী সাথী চৌধুরী কে জানান,তিনি আখিঁর বিষয়টি সরজমিনে প্রত্যক্ষ করেছেন। ঘরে আখিঁর সৎ মা থাকার কারনে আখিঁ সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আখিঁকে তালাবদ্ধ ঘড়ে রেখেছেন এবং উলঙ্গ অবস্থায় রাখা হয়েছিল বলে সাথী চৌধুরী নিজে দেখেছে বলে জানান। এবং বর্তমানে লোকজনের মধ্যে জানাজানি হলে তাকে একটু দেখা শুনা করছেন তার সৎ মা।
তবে এবিষয়ে আখিঁর দ্বিতীয় মা সুহেলা বেগম বলেন, আমার কাছে আখিঁ সৎ মেয়ে নয়। মেয়ে ত মেয়েই। দেড় বছর বয়স থেকেই তাকে আমি লালন পালন করেছি, এখনও করছি। তবে বর্তমানে তার অবস্থা খারাপ হওয়ার কারনে তিন চার মাস যাবৎ তাকে কোন ঔষধই খাওয়ানো যাচ্ছে না। আর আমার পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য এই মিথ্যা অপবাদ রটানো হচ্ছে।

আখিঁর আপন বড় বোন তাহমিনা বলেন , আমাকে ও আমার বোনকে সৎ মেয়ের মত কখনোই দেখেননি আমার মা। আমার বাবা মারা যাওয়ার পর আমাদের পরিবারের ভাবমুর্তি নষ্ট করার জন্যই এই অপপ্রচার।


আখিঁর ভাই গোলাম কিবরিয়া বলেন আমার বোনের চিকিৎসা হচ্ছে ,তবে বর্তমানে আমার উপর পুরো সংসারের দায়িত্ব। তাই আমার একার পক্ষে উন্নত চিকিৎসা করানোটা কষ্টসাধ্য।এমতাবস্থায় অসহায় আঁখির সুচিকিৎসার জন্য প্রশাসনসহ দানশীল ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জরুরিভাবে এগিয়ে আসার প্রয়োজনিয়তার কথা চিন্তা করে নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ ইউনুছ আলিকে আঁখির চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নির্দেশনা দেন।
এ ছাড়া ও নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্য ইমতিয়াজ আহম্মেদ আখিঁর বাড়িতে গিয়ে খোজ খবর নেন।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০