শিরোনাম

অবশেষে ঠিকানা খোঁজে পেল মা-বাবা হারা সম্প্রীতি

স্টাফ রিপোর্টার | মঙ্গলবার, ২৫ অক্টোবর ২০১৬ | পড়া হয়েছে 506 বার

অবশেষে ঠিকানা খোঁজে পেল মা-বাবা হারা সম্প্রীতি

অবশেষে একটি ঠিকানা খোঁজে পেল মা-বাবা হারা চারমাস বয়সী শিশুটি। পেল একটি মমতাময়ী  মায়ের কোল। যে দম্পত্তি বিগত প্রায় ১৪ বছর ধরে নিঃসন্তান ছিলেন। ছোট্ট ফুটফুটে শিশু ‘সম্প্রীতি’ সরকারের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা দম্পতির ঘরে ঠাই হয়েছে। গত রোববার বিকেলে শহরের মেড্ডার তিতাসপাড়াস্থ সরকারি শিশু পরিবারের উপ তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয়ে অনেকটা নিরবেই সম্প্রীতিকে ওই দম্পতির হাতে তুলে দেয়া হয়। সম্প্রীতিকে দত্তক নেয়া সেই দম্পতি তাদের পরিচয় গোপন রাখার জন্যে অনুরোধ করেছেন  সংবাদকর্মীদের। দত্তক নেয়া দম্পতি সাংবাদিকদের বলেন আমাদের ঘরে সে আমাদের নিজের  মেয়ের মতই বড় হবে।ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি মঈনুর রহমান জানান গত ১৪ অক্টোবর ভোরে বোরখা পড়া এক নারী ছোট্ট ওই মেয়ে শিশুটিকে পৌরশহরের কাজীপাড়া মহাল্লার মিয়াবাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি খোলা মাঠে ঘাসের উপর ফেলে রেখে যায়। ফজর নামাজ শেষে স্থানীয় মুসল্লিরা শিশুটিকে দেখতে পান। এসময় স্থানীয় এক নারী শিশুটিকে তুলে তার বাড়িতে নিয়ে যান। এ ঘটনার খবর পেয়ে সদর মডেল থানা পুলিশ ওই নারীর কাছ থেকে শিশুটিকে থানায় নিয়ে আসে এবং পরবর্তীতে সরকারি শিশু পরিবারে রেখে আসে। শিশু পরিবারে অনেকটা মাতৃ¯েœহেই বেড়ে ওঠছিল শিশুটি। শিশু পরিবারের উপ তত্ত্বাবধায়ক রওশন আরা খাতুন শিশুটিকে সম্প্রীতি নাম দেন। মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত সম্প্রীতি শিশু উপযোগী গুঁড়ো দুধ খাওয়ানো হচ্ছিল শিশু পরিবারে। সম্প্রীতিকে উদ্ধারের পর থেকেই অসংখ্য মানুষ তাকে দত্তক নেয়র জন্য বলেন। কিন্তু শিশু পরিবারসহ সদর মডেল থানা পুলিশ চাইছিল সম্প্রীতিকে তার প্রকৃত বাবা-মা অথবা উপযুক্ত কারো হাতে তুলে দেয়ার জন্য। অবশেষে প্রকৃত বাবা-মায়ের খোঁজ না পেয়ে উপযুক্ত এক দম্পতির হাতে তুলে দেয়া হয়েছে সম্প্রীতিকে। সম্প্রীতিকে সরকারি চাকুরিজীবী ওই দম্পতির হাতে তুলে দেয়ার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শিশু পরিবার সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে শিশু পরিবারের উপ-তত্ত্বাবধায় রওশন আরা খাতুন ও কারিগরি প্রশিক্ষক সুলতানা লাইজু বেশি ভেঙ্গে পেড়েন। ফুটফুটে সম্প্রীতিকে ঘিরে এ কয়দিন শিশু পরিবারের সবাই আনন্দে মেতে ছিল। বিদায় বেলায় তাদের অনেকেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। শিশু পরিবারের উপ তত্ত্বাবধায় রওশন আরা খাতুন বলেন, আমি যখন সন্তান সম্ভাবা ছিলাম তখন মনে মনে ভেবেছিলাম যদি মেয়ে সন্তান হয় তাহলে তার নাম রাখবো সম্প্রীতি। পুলিশ যখন শিশুটিকে আমার কাছে রেখে যায় তখন আমি শিশুটির নাম রেখেছি সম্প্রীতি। এই কদিনে সম্প্রীতির প্রতি আমাদের সবার মায়া পড়ে গেছে। ও চলে যাচ্ছে বলে অনেক খারাপ লাগছে।জেলা সমাজসেবা অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোস্তফা মাহমুদ সারোয়ার বলেন, প্রবেশন ও শিশু আইন অনুযায়ী কোনো শিশুর প্রকৃত বাবা-মাকে না খুঁজে না পাওয়া গেলে উপযুক্ত কারো হাতে সেই শিশুকে তুলে দেয়ার বিধান রয়েছে। আমরা সেই বিধান অনুযায়ী একটি স্ট্যাম্পে চুক্তি করে এবং প্রকৃত বাবা-মায়ের সন্ধান পেলে শিশুটিকে ফিরিয়ে দেয়ার শর্তে ওই দম্পতির হাতে শিশুটিকে তুলে দিয়েছি।


আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১